সিংগাইর উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২১ | আপডেট: ৭:৩৭:অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২১

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে সিংগাইর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিরু। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে সোমবার দিবাগত রাতে তাঁকে কুপিয়ে আহত করা হয়। সিংগাইর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ দুলাল ও ফারুক হোসেনের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলে আসছে। এই কোন্দলের জের ধরে দুলাল ও তাঁর বড় ভাই উপজেলা পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন ওরফে আঙ্গুর ফারুক এবং তাঁদের সহযোগীরা ফারুককে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মোল্লা মোহাম্মদ দুলাল ও তাঁর সহযোগীরা ফারুক হোসেনকে মারধর করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোন্দল দেখা দেয়।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার জয়মন্টপ এলাকা একটি গানের অনুষ্ঠান থেকে মোটর সাইকেলে করে উপজেলা সদরে বাড়িতে ফিরছিলেন ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেন। রাত একটার দিকে সিঙ্গাইর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে প্রতিপক্ষের দুলাল ও তার ভাই জালাল মোটরসাইকেলে গতিরোধ করেন। এরপর তাঁরা ফারুককে ধারালো অস্ত্র (চাইনিজ কুড়াল) দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে ছাত্রলীগের নেতা গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুককে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে ঢাকার ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিকস (পঙ্গু) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আজ মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে তিনি মারা যান।

সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে দুলাল ও জালাল চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ফারুককে হত্যা করে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, কিলিং মিশনে দুইটি সিএনজিতে থাকা পৃথক ৬জন অংশ নেয়। খুনের মোটিভ নিশ্চিত হলেও এখনো কেউ মামলা করেনি। এছাড়া খুনের ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগে কাউকে ধরা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার রিফাত রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহিৃত করতে এরই মধ্যে মাঠে পুলিশী অভিযান চলছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।