সিইসি ভয় দেখাচ্ছেন?

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৩:২১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮

নিবন্ধন আইনের বিধানের কথা তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি কে এম নুরুল হুদা বিএনপি ভয় দেখাতে চাইছেন কি না জানতে চেয়েছেন দলের মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী।

পরপর দুই বার ভোট বর্জন করলে নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। বৃহস্পতিবার সেই কথাই জানিয়েছেন সিইসি। আর শুক্রবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা সিইসিকে বলেন, বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের উদ্দেশ্য থাকলে নুরুল হুদাকে সরে যেতে হবে।

রিজভী বলেন, ‘বিএনপি নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই কথা বলে বিএনপি-কে ভয় দেখাচ্ছেন, যাতে বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে একতরফা বাকশালী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।’

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু হয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমলে। পরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে নতুন করে নিবন্ধন হয় দলগুলোর। এই আইনে নানা শর্ত রয়েছে যার একটিতে বলা আছে, পরপর দুইবার ভোট বর্জনকারী দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বচন বর্জন করা বিএনপির জন্য আগামী নির্বাচনে না আসা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এই আইনের কারণেই। আর নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেলে কোনো দলের পক্ষে তার দলীয় প্রতীকে ভোট করা সম্ভব নয়।

বিএনপির নিবন্ধন জনগণের হাতে- এ কথা জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘সিইসিকে বলে রাখি, একটি জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলের অতীত অর্জন, কীর্তি, সংগ্রাম ও অঙ্গীকার রক্ষার মধ্য দিয়ে জনগণের ভেতরে যে মজবুত অবস্থান তৈরি হয়, সেই দলের রেজিস্ট্রেশন থাকে জনগণের হাতে।’

‘জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে কাগুজে নিবন্ধনের ঝুঁকির কথা বলে লাভ হবে না। জনগণের বিচারই রাজনৈতিক দলের টিকে থাকার মাপকাঠি। কোন আত্মা বিক্রি করা ব্যক্তি কর্তৃক যখন জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধনের ঝুঁকির কথা বলে যে হুমকি দেয়া হয় তাতে নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকের আক্রমণ উপেক্ষা করে লড়াইয়ে লিপ্ত সাহসী জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীরা সেই হুমকিতে বিচলিত হয় না বরং ভোটাধিকার হরণের জন্য দায়ী সিইসি ভোটারদের অভিশাপে নিজের আত্মপতনের অন্ধকার গহ্বরে হারিয়ে যাবে।’

সিইসির বক্তব্যকে ভোটারবিহীন ‘শেখ হাসিনা মার্কা নির্বাচন স্টাইলের’ প্রতিধ্বনি উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এতগুলো ভোট ডাকাতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সেই নির্বাচনগুলোকে সুষ্ঠু বলে অভিহিত করেছেন, যে সিইসি সরকারি দলের ভোট নিয়ে অনাচারের বিষয়ে ‘স্পিকটি নট’ থেকেছেন, তিনি যে ক্ষমতাসীনদের ভাষাতেই কথা বলবেন সেটাই স্বাভাবিক।”

‘তাঁর এহেন কথা শুনে মনে হয়-পাতানো নির্বাচনের ব্যবস্থা করতেই সর্বশক্তি নিয়োগ করছেন তিনি। কারণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের প্রধান আধিকারিক হিসেবে ক্ষমতাসীনদের দাসত্ব করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেজন্য তাদের কথার বাহিরে এক ধাপ এগুতে পারেন না।’