‘সিনহার বইয়ের পেছনে কারা আমি জানি’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৯:১১:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বই প্রকাশে দেশের সাংবাদিক, আইনজীবী ও পত্রিকার মালিকদের মদদ দেওয়ার তথ্য রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আমি এ ব্যাপারে জানি, কিন্তু আমি আপনাদের বলবো না। বরং আমি আপনাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চাই এবং আমি চাই এই বই প্রকাশের পেছনে কারা রয়েছে তা আপনারা খুঁজে বের করবেন।’

নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে তাঁর অংশগ্রহণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যাওয়া তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নানা ঘটনাবলীর মধ্যে পদত্যাগ করেন। তার এক বছরের মাথায় বিদেশে বসে বই লিখে নতুন করে আলোচনায় আসেন সাবেক প্রধান বিচারপতি।

পদত্যাগ করার পর বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ওঠার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বলা হয়, ওইসব অভিযোগের কারণে আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরা আর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি নন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিচারপতি সিনহার ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’নামের বিইটি সম্প্রতি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এতে সাবেক প্রধান বিচারপতি তাঁর পদত্যাগের বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন। এই বইয়ের কপিরাইট হচ্ছে ললিতমোহন- ধনাবাতি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের নামে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এই বইয়ের প্রকাশনা উৎসবের কথা রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি কতবার বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে আনা হয় তা সাংবাদিকদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই বই প্রকাশনায় কারা অর্থ দিয়েছে এবং আপনাদের মতো কোনো সংবাদপত্রের সাংবাদিক এর সঙ্গে জড়িত কিনা এবং কি পরিমাণ অর্থ দিয়েছে তা অনুগ্রহ করে উন্মোচন করুন।’

‘কোনো বড় আইনজীবী এই বইয়ের পাণ্ডুলিপি সংশোধন করে দিয়েছেন কিনা অথবা কোনো সংবাদপত্র অথবা এর মালিক এর পৃষ্ঠপোষক কিনা তা আপনারা খুঁজে বের করুন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ সময় মঞ্চে ছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ-বিন-মোমেন সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশি এক সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির নিউ জার্সিতে বাড়ি রয়েছে। সে বিষয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি-না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বাড়ি কেনা কঠিন কিছু নয়। বিপুল দামের কারণে বাংলাদেশে কেনা কঠিন। অর্থ জমা করলে যুক্তরাষ্ট্রে যে কোনো ব্যক্তি বাড়ি কিনতে পারেন।’

‘কে এবং কীভাবে এই বাড়ি ক্রয় করেছে সে ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আপনারা খুঁজে বের করুন এবং তথ্য দিন। যদি কোনো ব্যক্তি এ ব্যাপারে দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘নির্বাচনকালীন সরকার বলে কোনো ডেফিনেশন নেই’বলেও মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী সাধারণ নির্বাচনের সময় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সরকার গঠন করা হতে পারে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। যদি তারা চান; তারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। নির্বাচনকালীন সময়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে… সরকারিদল বিরোধীদল যাই হোক, সবাইকে নিয়ে যদি তারা চান; আমরা হয়তো একটি সরকার গঠন করে নির্বাচনটা পরিচালনা করতে পারি। কিন্তু, এখানে নির্বাচনকালীন সরকার বলে কোনো ডেফিনেশন নেই।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই বিলটি পাস হওয়ার পরই সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ধারার ফলে প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হবে বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা। সংসদীয় কমিটিতেও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানায় সাংবাদিকরা।

এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধ এখন একটি আলোচ্য বিষয়। সকল দেশ এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

‘আমরা সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে এই আইন প্রণয়ন করেছি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নয়। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পর সাইবার অপরাধ এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সাংবাদিকদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা সবসময় আইনের শুধু একদিক দেখেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবাই এ ব্যাপারে সংকিত। কারণ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কার্যক্রমকে সাইবারের মাধ্যমে উসকে দেওয়া হয়।’

‘শিশু থেকে তরুণ পর্যন্ত সবাই যখন ভুল পথে চলে যাচ্ছে অথবা মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়ে ফেলছে, তখন বিভিন্ন সামাজিক ও ডিজিটাল মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য কিনা প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন। যদি কোনো সাংবাদিক সুষ্ঠু সাংবাদিকতার চর্চা করেন তাহলে তিনি কেন শংকিত হবেন?’

অন্যান্য দেশে এই ধরণের আইনে কি আছে- তা দেখে সাংবাদিকদের ক্ষোভ প্রকাশ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা নিয়ে ভারত ও চীনের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি নেতিবাচকভাবে না দেখার কথা বলেন।

তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে প্রত্যেকটা দেশই কিন্তু এগিয়ে। ভারত এগিয়ে এসেছে। ভারত তো ওখানে তাদের ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছে। চীনও তাদেরকে ঘরবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছে। মিয়ানমরাকে তারাও চাপ দিচ্ছে; যেন এদেরকে ফেরত নিয়ে যায়। প্রত্যেক দেশের নিজস্ব কাজ করার একটা নীতি থাকে বা ভঙ্গি থাকে। এটা নেগেটিভলি দেখলে চলবে না।’