সিনহার বই রাজনৈতিক দলিল: মওদুদ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ২:৪৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ফাইল ছবি

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও তার বইকে রাজনৈতিক এবং সামাজিক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে অাখ্যায়িত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচনের আগে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই আইনটা করা হয়েছে। কারণ হলো, গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া যাবে না। তাদেরকে আমাদের (সরকার) নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

আগামী রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভা হবে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঐক্য প্রক্রিয়া যখন নতুন শুরু হলো তখন সবাই এটাকে স্বাগত জানালেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির অন্য নেতারাও স্বাগত জানালেন। এই স্বাগতটা একদিন-দুইদিন ছিল মাত্র। কিন্তু যখন তারা দেখলো বাংলাদেশে নতুন একটা আন্দোলন সৃষ্টি হচ্ছে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে এবং নির্বাচনে পরাজিত হবে তখন তারা গালিগালাজ শুরু করে দিলো! প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে বললেন, সব দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোররা একত্রিত হয়েছেন। একই কাজ কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনের সময়ও করা হয়েছিলন।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমি বলবো, অত্যন্ত নিচু মনের পরিচয় দিয়েছেন (প্রধানমন্ত্রী)। একেবারেই অশালীন ভাষায় কথা বলেছেন। এটা আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না।

আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, দুই একটা ঘটনা শুধু মানুষের মনে তুলে ধরতে হবে। এর মধ্যে একটা হচ্ছে, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন ফারুককে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার ভিডিও যদি দেখানো হয় তাহলে আওয়ামী লীগের ভোট অনেক কমবে এবং বিএনপির ভোট বাড়বে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মওদুদ বলেন, গ্রামের মানুষদেরকে বলেন সরকার বলেছিল- ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। সেটা আপনারা পেয়েছেন কী না? মানুষ তখন উল্টো আপনাকে বলবে, সামান্য একটা পিয়নের চাকরি জন্য ৫ লাখ টাকা দিতে হয়েছে।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বর্তমান সরকার হাজার হাজার নতুন চাকরি দিয়েছে, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ও অধিদপ্তরে। এসব দলীয়ভাবে দেওয়া হয়েছে এবং দলীয় নেতাকর্মীদেরকে। কিন্তু দলীয় কর্মীদের কাছ থেকেও তারা অর্থ নিয়েছে। টাকার বিনিময় ছাড়া গত ১০ বছরে কেউ কোন সরকারি চাকরি পায়নি। এমনকি টাকা ছাড়া আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মীরাও চাকরি পায়নি। সুতরাং যারা টাকা দিয়ে চাকরি নিয়েছে, তারা কেউ আওয়ামী লীগকে আর ভোট দেবে না।

আয়োজক সংগঠনের সহসভাপতি মো. মজিবর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।