সিলেটে চুরির অপবাদ দিয়ে দুই কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় দুই কিশোরকে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হয়।

পুলিশ দুই কিশোরকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পীর ফয়জুল হক ইকবালের জিম্মায় ছেড়ে দিলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাদের ঢাকায় প্রেরণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের হকিয়ার চর গ্রামের আল ইমরান ও মোল্লারবন গ্রামের ইমরান আহমদ ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে গ্রামের রাস্তা থেকে লোকমান আহমদ ও তার লোকজন তাদের ধরে নিয়ে যায়। এরপর গরু চুরির অপবাদ দিয়ে তাদের উপর চালানো হয় নৃশংস নির্যাতন।

চোখ বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়, শরীরের বিভিন্ন অংশে পেরেক ঠুকে দেয়া হয়। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অকথ্য নির্যাতনে আধমরা অবস্থায় তুলে দেয়া হয় পুলিশের কাছে।

লালাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান পীর ফয়জুল হক ইকবাল বলেন, নির্যাতন করা হয়েছে এ কথা সত্য। চোরকেও কেউ এমনভাবে নির্যাতন করে না। নির্যাতনের পর পুলিশের কাছে তুলে দিলে আমি তাদের আমার জিম্মায় ছাড়িয়ে এনেছি। বর্তমানে তারা ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছে বলে জেনেছি।

লালাবাজার ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুর রহিম জানান, এই দুই কিশোর চোর নয়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই চুরির অপবাদ দিয়ে দুই কিশোরকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।

জানা গেছে, দুই কিশোরকে নির্যাতনকারী লোকমান আহমদ, শিপন আহমদ, জাহেদ মিয়া, তারেক মিয়া, রাসেল মিয়া, জাবের মিয়া, সাদ আহমদ, শাহাজাহান, মিজান, লিপন , বাবুল আহমদ বিবিদইল গ্রামের বাসিন্দা। রাতভর নির্যাতনের পর প্রথমে দুই কিশোরকে চেয়ারম্যানের কাছে নেয়া হয়। চেয়ারম্যান তাদের অবস্থা দেখে নিজের জিম্মায় না নিলে পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দুই কিশোরকে চেয়ারম্যানের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যারা গরু চুরির কথা বলে মারধর করেছে তারা কোনো অভিযোগ দেয়নি। ওই দুই কিশোরের পক্ষ থেকেও কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।