সীমা ছাড়িয়েছেন ট্রাম্প, এবার থামাতে হবে

প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ১২:২৪:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প তার বন্ধুদের আঘাত করে চলেছেন। ফলে বন্ধুহীন বিচ্ছিন্ন পরাশক্তি হয়ে পড়েছে ট্রাম্পের আমেরিকা। আন্তর্জাতিক মহল ট্রাম্প কাণ্ড যারপরনাই বিরক্ত।

ডোনাল্ট ট্রাম্প গত শুক্রবার এক টুইট বার্তায় লিখেছিলেন, ‘আমি এইমাত্র তুরস্কের অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের ওপরে শুল্ক দ্বিগুন করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি।’

‘শক্তিশালী ডলারের বিপরীতে তুর্কি মুদ্রার লিরার দরপতন ঘটাতে আমি এটা করেছি। এখন থেকে অ্যালুমিনিয়ামে শতকরা ২০ ভাগ এবং স্টিলের ওপর শতকরা ৫০ ভাগ শুল্ক কার্যকর হবে। তুরস্কের সাথে আমাদের সম্পর্ক এখন ভালো নয়।’

ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পর ডলারের বিপরীতে তুর্কি মুদ্রা লিরার মান দ্রুত কমে যায়। পরিস্থিতি আরা খারাপ হয় যখন লন্ডন ও টোকিও ভিত্তিক বড় ব্যাংকগুলো তুর্কি লিরার পরিবর্তে মার্কিন ডলার কিনছিল।

তবে শক্তিশালী ব্যাংকিং সিস্টেম এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রশাসনের কারণে তুরস্ক আমেরিকার এ অর্থনৈতিক হামলা ঠেকাতে সক্ষম হচ্ছে।

তুর্কি লিরার মান দ্রুত কমে যাওয়ার যেমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল তেমনটি অবশ্য হয়নি। বরং তুর্কি লিরার দাম কিছুটা কমলেও একই সাথে ডলারের মানও কমতে শুরু করেছে। আঙ্কারার উদ্দেশ্য এখন কীভাবে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ঠেকানো যায় সে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

তবে ক্ষমতায় আসার আগে ট্রাম্প প্রশাসন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা এ সময়ে বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অন্যান্য দেশের প্রতি ভয় দেখানো এবং সমস্যা সৃষ্টির মানসিকতার কারণে ডোনাল্ট ট্রাম তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারবে না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানা সমস্যয় সৃষ্টি করছে।

তুরস্কের সাথে আমেরিকার মুদ্রমূল্যের অস্বাবাভিক অবস্থা চলছে। অন্যদিকে ইরান ও রাশিয়ার ওপরে অবরোধ অন্যান্য দেশকেও আঘাত করছে। ফলে যেসব দেশ তুরস্ক, ইরান ও রাশিয়ার ব্যাংকের সাথে লেনদেনে জড়িত এবং স্থিতিশীল বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে তারা ট্রাম্পের অহেতুক মন্তব্য ও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে।

এদিকে জার্মানি, ইতালি, ব্রিটেন, স্পেন, তুর্কি, চীন এবং রাশিয়া ডলারের বিপরীতে বিকল্প মুদ্রা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। এতে তারা সফল হলে আমেরিকার একতরফা খবরদারী খর্ব হবে। অবশ্য দেশগুলোর এই পরিকল্পনা ডোনাল্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপের মতো মুক্তবাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করবে।

বিশ্ববাজারের এই অচলাবস্থা যে তৈরি হবে সেটা বলার জন্য ভবিষ্যতবক্তা হওয়ার দরকার নেই। এর পরিণতিতে আমেরিকার ব্যাবসা এবং শেয়ারবাজারও আক্রান্ত হবে।
এছাড়া জার্মানি ট্রাম্পের এই বেআইনি পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে এবং তুরস্ককে সমর্থন দিয়েছে। জার্মানি আরো ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের ওপর আমেরিকার অবরোধ সমর্থন করে না। এই অবরোধ রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবে বলে দেশটি মনে করে।

স্বাধীন দেশগুলোর বিচার ব্যবস্থা, ব্যবসা এবং অন্যান্য আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ট্রাম্প সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ বিশ্বের ভারসাম্য নষ্ট করছে। আমেরিকার জনগণসহ বিশ্ববাসীকে এর মূল্য দিতে হবে। নভেম্বরের নির্বাচনের পূর্বে অবশ্যই ট্রাম্পকে থামাতে হবে। ঋণের চক্রে পৃথিবীকে ধ্বংস করে ফেলবে ট্রাম্প।

সুত্র: ডেইলি সাবাহ।