সুখ-দুঃখ দুটোই অনেক কাছ থেকে দেখা আমার: ঐশী

টিবিটি টিবিটি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৮ | আপডেট: ৮:২৭:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৮
সংগৃহীত ছবি

পিরোজপুরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া সাধারণ মেয়ে। কিন্তু এখন আর সাধারণ নেই; হয়ে গেলেন অসাধারণ। হয়ে উঠলেন ’মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদশ ২০১৮’র বিজয়ী। তিনিই এবার মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগীতায় বাংলাদেশের সুন্দরীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন। মঙ্গলবার সমকাল অনলাইনের মুখোমুখি হন ঐশী। নিজের সম্পর্কে অনেক কথাই জানালেন সদ্য তারকা বনে যাওয়া এ সুন্দরী। বাংলাদেশ টুডে’র পাঠকদের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো

প্রশ্ন: জীবনের গতিপথ তো বদলে গেলো। কেমন লাগছে?

ঐশী: দুইদিনে সেটাই মনে হচ্ছে। অনেক জায়গায় ইন্টারভিউ দিচ্ছি। যে টেলিভিশনে কয়েকদিন আগেও আমি অন্যদের সাক্ষাৎকার দেখেছি সেখানে আজ আমি নিজেই সাক্ষাৎকার দিচ্ছি। তবে জীবনের গতিপথ বদলালেও আমি কিন্তু মানুষ হিসেবে আগের সাদামাটা ঐশীই আছি।

প্রশ্ন: আপনি বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। সাদামাটা থাকলে চলবে?

ঐশী: আসলে আমার সব কিছুই স্বপ্নের মতো লাগছে। মনে হচ্ছে, ঘুমিয়েছিলাম উঠে দেখি আমার মাথায় মুকুট। অনেকটা মুগ্ধতাও কাজ করছে। যার কারণে কথাও জট লাগিয়ে ফেলছি। আর সাদামাটা বলতে বুঝিয়েছি- আমি সাধারণ মানুষই আছি। বন্ধুরা ফোন করে বলছে, তুমি তারকা হয়ে গেলে। আসলে সে রকম কিছু না। আমি নিজেকে সাধারণ মানুষ ভাবতেই পছন্দ করি। এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আমি। সুখ আর দুঃখ দুটোই অনেক কাছ থেকে দেখা আমার।

প্রশ্ন: এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে কিভাবে যুক্ত হলেন?

ঐশী: অনেকটা কাকতালীয়ভাবেই যুক্ত হয়েছি বলা যায়। এইচএসসি শেষ করে গত জুলাইয়ে ঢাকায় এসেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং করার জন্য। ভালো কোথাও ভর্তি হয়ে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করাই ছিল চিন্তা। আইএলটিএস কোচিংয়েও ভর্তি হয়েছিলাম। ঢাকায় এসে আত্মীয়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতাম। হঠাৎ একদিন শুনলাম মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮-এর আবেদন চলছে। ছেলেবেলা থেকেই সৌন্দর্যের জন্য অনেকে আমার প্রশংসা করত। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই অনেকটা কৌতূহলী হয়ে এ প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথমদিকে অনেক প্রতিযোগী দেখার পর ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। প্রথম বাঁধা টপকানোর পর একের পর এক গ্রুমিং সেশনে নিজেকে নতুনভাবে আবিস্কার করতে লাগলাম। তবে সত্যি বলতে কি, চ্যাম্পিয়ন হবো তা কখনোই ভাবিনি।

প্রশ্ন: লেখাপড়া করে বাবা-মাকে খুশি করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিচিতি পেলেন সুন্দরী হিসেবে। বাবা-মা কী এই পরিচয়ে খুশি?

ঐশী: তারা অবশ্যই খুশি। তারা সবসময় আমার সঙ্গে আছেন। আমি ভলো কিছু করছি এতে তারা আমাকে সাহস দিচ্ছেন। আমার পাশেই আছেন তারা।

প্রশ্ন: লেখাপড়ার তো ক্ষতি হয়ে গেলো?

ঐশী: তাতো একটু হবেই। তবে এদিকটার ব্যস্ততা শেষ হলে পড়াশোনায় আবারও মনোযোগী হবো।

প্রশ্ন: শোবিজে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছে আছে?

ঐশী: আমি তো এখনও স্বপ্নের মধ্যেই আছি। কোন পরিকল্পনা করার সময় ও সুযোগ এখনও পাইনি। শোবিজে ক্যারিয়ারে নিয়ে এখনও কিছু ভাবছিনা। আপাতত মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা নিয়েই ভাবছি। নিজেকে প্রস্তুত করছি।

প্রশ্ন: প্রস্তুতিটা কেমন?

ঐশী: গ্রুমিং করছি। স্বপন স্যার বলছেন, দেশের বাইরে থেকে বড় মাপের একজন কোরিওগ্রাফার আমার গ্রুমিং করাবেন। এখন তার অপেক্ষায় আছি। ফটোশুটও করতে হচ্ছে। দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে মর্যাদার সঙ্গেই বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে যে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার তার সবটাই নেবো।

প্রশ্ন: ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতে চাই?

ঐশী: এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছি। আমার বেড়ে ওঠা বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলায়। বাবা সমাজকর্মী এবং মা শিক্ষিকা। দুই বোনের মধ্যে আমি ছোট। স্কুল ও কলেজে নিয়মিত বিতর্কে অংশ নিতাম। নাচের সঙ্গেও অনেকদিন ধরে যুক্ত আছি।