সুমিকে সৌদি মনিবের কাছে বিক্রি করা হয়েছিলো!

প্রকাশিত: ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৫৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৯

সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি গৃহকর্মী সুমি আক্তারকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে সেদেশের পুলিশ। সোমবার রাতে জেদ্দার দক্ষিণে নাজরান এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয় স্থানীয় পুলিশ।

এ বিষয়ে সুমির স্বামী নুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সুমির সঙ্গে দুপুরে একবার কথা হয়েছে। সুমি বলেছে, সৌদি পুলিশ তাকে নেওয়ার জন্য আসবে। পরে রাতে আবার কথা হলে সুমি জানায়, এখন আর ফোন দিয়েন না, কিছু সময়ের মধ্যে পুলিশ এসে আমাকে নিয়ে যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, সুমিকে থানায় নিয়ে আসা হলেও তার এখানকার নিয়োগকর্তা (কফিল) তাকে ছাড়তে চাইছেন না।

তিনি সুমিকে আরও রাখতে চান। সুমিকে ছাড়তে হলে যারা বাংলাদেশ থেকে মধ্যস্থতা করে (রূপসী বাংলা ওভারসিজ) তাকে সেখানে পাঠিয়েছে, তাদের কাছ থেকে সৌদির কফিলকে অর্থ আদায় করে দিতে হবে।

কফিলের ভাষ্য, কারণ এখানে সুমিকে আনতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে, এই টাকা সুমির সেবায় শোধ হয়নি।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি সুমিকে তার অজান্তেই সৌদি মনিবের কাছে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলো রূপসী বাংলা ওভারসিজ এর লোকরা? সুমির সৌদি মনিবের (কফিল) দাবি থেকে তো এমন প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন আগে সৌদিতে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি গৃহকর্মী সুমি আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আকুতি জানান। ভিডিও কলে তিনি বলেন, ‘ওরা আমারে মাইরা ফালাইব, আমারে দেশে ফিরাইয়া নিয়া যান। আমি আমার সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে পরিবারের কাছে নিয়ে যান। এখানে আমার ওপর অনেক নির্যাতন করা হচ্ছে। আর কিছুদিন থাকলে হয়তো মরেই যাব। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে অনুরোধ আপনারা আমাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যান।’

সুমির আকুতির সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর তার স্বামী নুরুল ইসলাম রাজধানীর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে গৃহকর্মীর ট্রেনিং শেষ করেন সুমি। পরে দালালদের দেখানো লোভ আর বিদেশে গিয়ে ভালো টাকা আয়ের আশ্বাসে ৩০ মে ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’ নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। কিন্তু দালালরা বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাকে বিক্রি করে দেয়। সৌদি যাওয়ার সপ্তাহ খানেক পর শুরু হয় মারধর, যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা জানান, সুমিকে থানায় নিয়ে আসা হলেও তার এখানকার নিয়োগকর্তা (কফিল) তাকে ছাড়তে চাইছেন না। তিনি সুমিকে এখানে রাখতে চান। তাকে ছাড়তে হলে রূপসী বাংলা ওভারসিজের কাছ থেকে সৌদির কফিলকে টাকা আদায় করে দিতে হবে।

কফিলের দাবি, সুমিকে সৌদিতে নিতে তার প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। যা এখনও সেবায় (কাজে) শোধ হয়নি।