সেই অনিয়ন্ত্রিত চীনা রকেটটি কোথায় পড়বে, ট্র্যাক করছে যুক্তরাষ্ট্র

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২১ | আপডেট: ৮:২৪:অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২১

চীনা মহাকাশ প্রকল্প ‘তিয়ানহে স্পেস স্টেশন’ এর জন্য পাঠানো একটি রকেটের ১০০ ফুট লম্বা মূল অভ্যন্তরীণ অংশের (কোর) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে। অনিয়ন্ত্রিত গতিতে সেটি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এটি পৃথিবীর যে কোথাও পড়তে পারে।

গার্ডিয়ান জানায়, ওই রকেটটির নাম- ‘লং মার্চ ৫বি রকেট’। হুনান থেকে গত ২৯ এপ্রিল এটি উৎপেক্ষণ করা হয়। রকেটটি সফল ভাবে তিয়ানহে স্পেস স্টেশনের মডিউলকে কক্ষপথে স্থাপন করতে পারলেও পরে সেটির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারায় গ্রাউন্ড স্টেশন। এটি এখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে চলেছে। তবে এর ভিতরের ১০০ ফুট লম্বা (৩০ মিটার) একটি অংশ রকেট থেকে আলাদা হয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রকেটের অংশটি জনবসতিপূর্ণ কোথাও আছড়ে পড়লে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোফিজিক্স সেন্টারের বিশেষজ্ঞ জনাথন ম্যাকডোয়েল বলেছেন, ‘পরিস্থিতি খুব একটা সুবিধাজনক নয়। চীন এর আগেরবার যখন ‘লং মার্চ ৫বি রকেট’ উৎক্ষেপণ করেছিল তখনও কিছু বড় লম্বা ধাতব অংশ পড়ে আইভরি কোস্টে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যদিও বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে এর বেশিরভাগ অংশই জ্বলে গিয়েছিল। তবুও প্রচুর ধাতব টুকরো পৃথিবীতে এসে পড়েছিল। আমরা খুব ভাগ্যবান যে তখন কেউ হতাহত হয়নি।’

অনিয়ন্ত্রিত গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা চীনের বৃহত্তম রকেট লং মার্চ ৫-বি কোথায় পড়বে তার ট্র্যাক করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীনের বৃহৎ অনিয়ন্ত্রিত রকেটটিকে এ সপ্তাহের শেষেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাইক হাওয়ার্ড সিএনএনকে বলেছেন, ধারাণা করা হচ্ছে চীনের লং মার্চ ৫বি রকেটটি ৮ মে পৃথিবীর বায়ু মণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। তবে মার্কিন স্পেস কমান্ড রকেটটির ট্র্যাক করছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের কয়েক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত এটা বলা সম্ভব হবে না যে ঠিক কোন অংশ দিয়ে এট পৃথিবীতে প্রবেশ করবে। তবে এর ট্র্যাকিংয়ের আপডেট ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে অ্যারোস্পেস ডট অর্গ রকেটটি ট্র্যাক করেছে।এটি ৮ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। তবে এর সময় পরিবর্তনও হতে পারে।

এদিকে এটা পৃথিবীর কোথায় আছড়ে পড়বে তা জানা না গেলেও এই অংশটি কোনও মহাসাগর বা নির্জন এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোফিজিক্স সেন্টারের একজন অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট জনাথন ম্যাকডোয়েল।

পৃথিবীর কক্ষপথে নিজের দেশের একটি মহাকাশ স্টেশন বানাতে চলেছে চীন। প্রকল্পের নাম- ‘তিয়ানহে মহাকাশ স্টেশন’। তা উৎক্ষেপণের জন্য কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। ওই মহাকাশ স্টেশনের একটি ‘মডিউল’ (অংশ) পরীক্ষামূলকভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠাতে গত ২৮ এপ্রিল ‘লং মার্চ ৫বি রকেটের’ উৎক্ষেপণ করেছিল চীনা মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।

চীনা রকেটটি সফলভাবে মহাকাশ স্টেশনের ‘মডিউল’টিকে কক্ষপথে স্থাপন করতে পারলেও নিজেকে আর গ্রাউন্ড স্টেশনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। ঘুরে চলেছে পৃথিবীর কক্ষপথে। তবে তার ভেতরের ১০০ ফুট লম্বা (৩০ মিটার) অংশটি রকেট থেকে আলাদা হয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে দিন-কয়েকের মধ্যেই ঢুকে পড়তে চলেছে।

লং মার্চ ৫-বি রকেটটি এখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘণ্টায় ২৭ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বেগে ছুটছে। কখনো ১৭০ আবার কখনো ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিচে নেমে আসছে এটি। তবে দিনে দিনে এটি আরও নামবে। আপাতত এর গতিপথের মধ্যে পড়েছে নিউ ইয়র্ক, মাদ্রিদ, বেইজিং, দক্ষিণ চিলি, ওয়েলিংটন, নিউ জিল্যান্ডসহ আরও কিছু স্থান। এই চলার পথে সামান্য এদিক ওদিক হলেই এর ল্যান্ডিং স্পট বদলে যেতে পারে।