সেই এএসআইয়ের হাতে অবশেষে হাতকড়া

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ৪:১৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮

নিজেকে রক্ষায় অনেক তদবির করেছেন, ঢেলেছেন বিস্তর টাকাও। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। অবশেষে ব্যবসায়ী ইউনূস হাওলাদার খুনের ‘পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজধানীর শ্যামপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূর আলম।

গত শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) কার্যালয় থেকে নূর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে কেরানীগঞ্জ থানাপুলিশ। গতকাল দুপুরে তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে এএসআইকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

গত ১৪ আগস্ট ‘এত কিছুর পর জানা গেল পুলিশই ঘাতক : মামলার জাল থেকে মুক্তির আশ্বাসে বৃদ্ধকে হত্যা’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। অভিযুক্ত এএসআই নূর আলম সে সময় বলেছিলেন, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তিনি জড়িত নন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। অবশ্য ইউনূস হাওলাদার হত্যায় নূর আলমের নাম উঠে আসার পর পরই তাকে শ্যামপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

এ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত এএসআই নূর আলমসহ তিনজন গ্রেপ্তার হলেন। অন্য দুজন হলেন, নিহতের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. ওহিদ ওরফে সুমন (কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বিআরটিএ অফিসের দালাল) ও পুলিশের সোর্স মো. ছাবের ওরফে শামীম। তাদের মধ্যে হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে সুমন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেছেন, এএসআই নূর আলমই ইউনূস হাওলাদার হত্যার মূল নায়ক (পরিকল্পনাকারী)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত মুখোশ পরা এক সন্দেহভাজন খুনিকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহতের স্ত্রী মারুফা খানম  জানান, শ্যামপুরের পশ্চিম ধোলাইরপাড় এলাকায় নিজের দুটি বাড়ির ভাড়া থেকে যে আয় হতো, তা দিয়েই চলতেন ইউনূস হাওলাদার। আর তার ব্যবসা দেখভাল ও আয়-ব্যয়ের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন ছেলের হাতে। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের ১১/১ নম্বর বাড়ির পঞ্চমতলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় এক পুরুষ ও নারী। এর ১১ দিন পর, গত ১৯ জানুয়ারি বিকালে শ্যামপুর থানার এসআই মাহাবুব আলমসহ কয়েক পুলিশ সদস্য ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালান। তিন ঘণ্টা পর কথিত ওই দম্পতিসহ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান এসআই। আটককৃতদের বিরুদ্ধে এর পর মানবপাচার আইনে মামলা দেওয়া হয়।

মারুফা খানম আরও জানান, পুলিশের ওই অভিযানকালে ইউনূস হাওলাদার দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু তাকেও মানবপাচার মামলায় জড়িয়ে দেন এসআই মাহাবুব আলম। মারুফা যোগ করেন, এর পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম চার্জশিট থেকে ইউনূস হাওলাদারকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে তার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। মারুফা ওই এসআইকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে সে দিনের মতো বিদায় দেন। এর কিছু দিন পরই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ইউনূস হাওলাদার।

অভিযুক্ত এএসআইকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে মারুফা বলেন, আমার স্বামীকে হত্যার মূল নায়ক নূর আলমই বটে। কিন্তু যারা আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে চার্জশিট থেকে নাম কাটাতে ঘুষ চাইলেন, ঘুষ নিলেন তারাও এর দায় এড়াতে পারেন না। আমি এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ইউনূস হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই গোলাম মোস্তফা বলেন, তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই ইউনূস হাওলাদারকে খুন করা হয়। শনিবার রাতে ওয়ারী এলাকা থেকে অভিযুক্ত এএসআই নূর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে রিমান্ডে পেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

-আমাদের সময়।