সেই নারী ব্যাংকারকে নিয়ে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৯ | আপডেট: ১২:১৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৯

সোমবার (২৬ আগস্ট) ১২টা ৩৩ মিনিট। প্রতিদিনের মত ঢাকার উত্তরায় প্রাইম ব্যাংকের কার্যালয়ে নিজ ডেস্কে কাজ করছিলেন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার গহর জাহান। কাজের ফাঁকে হয়তো একবারও ভাবেননি ২ মিনিট পর মৃ’ত্যু’র স্বাদ গ্রহণ করতে হবে তাকে।

ব্যাংকের একজন নারী গ্রাহক সেবা নিচ্ছিলেন গহর জাহানের ডেস্কে। ওই গ্রাহক তার ব্যাগ থেকে একটি রশিদ বাড়িয়ে দেন। গ্রাহকের রশিদ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গহর জাহান।

ঠিক ৩৪ সেকেন্ড পর অস্বস্তি বোধ করতে থাকেন তিনি। ওই সময় কপাল, গাল, নাক-মুখ ও চোখে হাত দিতে দেখা যায় তাকে। অস্বস্তির মাত্রা তীব্রতর হতে থাকে গহরের। বার বার কপালে হাত দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সামনে থাকা ওই নারী গ্রাহক গহর জাহানের অসু’স্থতার বিষয়টি একদমই খেয়াল করছিলেন না। এর মধ্যে পাশে রাখা গ্লাস থেকে তিনবার পানি পান করেন তিনি।

এরপর ঠিক ১২টা ৩৫ মিনিটে আরেকবার পানি পানের সময়ই মৃ’ত্যু’র দিকে ঝুঁ’কে যান গহর জাহান। সে সময়ই তার মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। টেবিলে মাথা রেখে নুয়ে পড়ে গহর। সঙ্গে সঙ্গে সামনে বসে থাকা নারী তার মাথায় হাত দিয়ে অন্য সহ’কর্মীদের ডাকতে থাকেন। তখন তার সহক’র্মীরাও জড়ো হন।

কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই পরপারে চলে যান গহর। অন্যান্য কর্মকর্তারা তখনও বুঝেননি তিনি আর নেই। তারা তাকে সোজা করে চেয়ারে বসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু চেয়ার থেকে নিচে পড়ে যান গহর জাহান।

ব্যাংকার গহর জাহান। নিজের ঘর ছিল না, ছিল না স্বামী কিংবা সন্তান। সোমবার (২৬ আগস্ট) কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ চেয়ারে ঢলে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় তার।

প্রাইম ব্যাংকের উত্তরার জসীমউদ্দীন রোড শাখা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এই মৃত্যু ব্যথিত করেছে বহু মানুষকে। তার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক জানিয়েছেন অনেকে।

জানা গেছে, ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল গওহর জাহানের। এমন নাজুক শারীরিক অবস্থা নিয়েও ব্যাংকে নিয়মিত কাজ করছিলেন তিনি। গওহরের নিজের কোনো বাড়িঘর ছিল না। থাকতেন ভাইয়ের বাড়িতে।

গওহর জাহানের ভাই মো. মারুফ নাওয়াজ বলেন, ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল গওহরের। এ কথা শুনলে পাত্রপক্ষ পিছিয়ে যেত। তাই কখনো বিয়ে করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেয় আমার বোন।

তিনি বলেন, বিয়ে করেননি বলে নিজেকে মাদার তেরেসার সঙ্গে মেলাতেন। বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন গওহর। দিনে রাতে যে কারো কোনো বিপদে ছুটে যেতেন। গওহরের সহায়তায় একাধিক এতিম ছাত্র কোরআনে হাফেজ হয়েছেন। অনেককে লেখাপড়া করিয়েছেন।