সেই সিরিয়ায় নির্বাচন, শান্তি ফিরবে তো?

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১ | আপডেট: ৯:২৮:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১

সিরিয়ায় এক দশকের বেশি সময় গৃহযুদ্ধ চলছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। বহু মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী ২৬ মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠান জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বলা হলেও পরিস্থিতির খুব একটা হেরফের হবে না। মূলত বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ক্ষমতার ভিত আরও দৃঢ় করতেই এ নির্বাচন দেওয়া হচ্ছে। কারণ যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় আসাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো শক্ত প্রতিপক্ষ নেই। আর বাইরের শক্তির সহায়তায় সিরিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলও এখন আসাদ বাহিনীর দখলে।

এএফপি বলছে, গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সূত্র ধরে ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধে ৩ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অর্ধেক সিরীয় গৃহহীন হয়ে নানা শরণার্থী ক্যাম্পে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। দশকের গৃহযুদ্ধে দেশটির অর্থনীতি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে গত রবিবার (১৮ এপ্রিল) পার্লামেন্টের স্পিকার হামুদা সাবাগ বলেন, ‘আগামী ২৬ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোটের মাধ্যমে একজন প্রেসিডেন্ট ৭ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন।’ সম্ভাব্য প্রার্থীরা সোমবার থেকে নিজেদের নাম নিবন্ধন করার সুযোগ পাচ্ছেন। বিদেশে অবস্থান করা সিরিয়ার নাগরিকরা দূতাবাসের মাধ্যমে ২০ মে ভোট দিতে পারবেন।

গৃহযু্দ্ধ শুরুর পর দেশটিতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বাশার আল আসাদ ৯২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু সিরিয়ার ভেতরের বিরোধীপক্ষ (ফ্রি সিরিয়ান আর্মি বা এঅএসএ) এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে ওই ভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ক্ষমতার ভিত আরও দৃঢ় করতেই এ নির্বাচন দেওয়া হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদরে ধারণা

এদিকে সোমবার (১৯ এপ্রিল) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের পালমিরায় ‘সন্ত্রাসী’ ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে ২০০ জনকে হত্যার দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে মস্কো জানায়, সব ধরনের সূত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর এ হামলা চালানো হয়। এতে সন্ত্রাসীদের দুটি আস্তানা ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে থাকা দুই শতাধিক যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পাশাপাশি ২৪টি ট্রাকে বোঝাই ভারী অস্ত্র এবং আইইডির জন্য মজুত করা ৫০০ কেজি বিস্ফোরক ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে কোনো গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি রাশিয়া। শুধু বলেছে, নির্বাচন ঘিরে পালমিরার সন্ত্রাসীরা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ছদ্মবেশে থাকা অঞ্চল লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে, যেখানে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘাঁটি গেড়েছিল এবং তারা দেশজুড়ে হামলার পরিকল্পনা ও বিস্ফোরক মজুদ করছিল।

সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি বিশেষ করে বড় শহরের সরকারি দপ্তরে তারা সুনির্দিষ্টভাবে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আসাদকে সব সময় রাশিয়া সমর্থন দিয়ে আসছে। তাদের সাথে ইরান এবং লিবিয়ার হিজবুল্লাহর সমর্থন রয়েছে। ২০১৫ সালে সরকার বিরোধী বিদ্রোহী দমনে রুশ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। যদিও রাশিয়ার সেনাবাহিনীর এ ভূমিকা নিয়ে দেশটিতে সমালোচনা রয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আল-তানাফসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দেশটিতে অস্থিরতা তৈরির জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আল-তানাফ অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর দখলে রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মস্কো ইরান সমর্থিত সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে মিলিশিয়া ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানায় এবং সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানায়।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ এ সময় বলেন, রাশিয়া সিরিয়া নিয়ে ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা জানতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানায়, দেশটি ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাদের নেই।