সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ, আটকে পড়েছেন পর্যটকরা

প্রকাশিত: 10:05 AM, November 8, 2019 | আপডেট: 10:06:AM, November 8, 2019

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে বঙ্গোপসাগরে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

আজ শুক্রবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার স্বাক্ষরিত নোটিশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

এ দিকে, আবহাওয়াজনিত কারণে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্ট মার্টিনে অনেক পর্যটক আটকে আছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিব খান জানান, বৃহস্পতিবার বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকে টেকনাফ থেকে ফেরেনি। হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা আটকে গেছে।

তবে, স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে বলেও জানান ইউপি সদস্য হাবিব খান।

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন সমুদ্র পথে চলাচলকারী দ্যা আটলান্টিক ক্রুজের কক্সবাজার অফিস ইনচার্জ নাসির উদ্দিন জানান, সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় শুক্রবার টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে জাহাজ চলবে না। এ সংক্রান্ত নোটিশ বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে যথারীতি জাহাজ চলাচল শুরু হবে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানায়, সাগরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে সেন্ট মার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশেষ ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্য বলা হয়েছে।

সেন্ট মার্টিন পুলিশ জানায়, আটকে পড়া পর্যটকরা দ্বীপের ১০৬টি হোটেল-মোটেল ও কটেজে অবস্থান করবে। তাদের প্রশাসনিকভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটকরা গন্তব্যে ফিরতে পারবেন।

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন সমুদ্র পথে বর্তমানে কেয়ারি ক্রুজ এন্ড ডাইন, দ্যা আটলান্টিক, এমভি ফারহান চলছে। অনুমতি পেলেও বাকি দুইটি জাহাজ এখনো ঘাটে ভিড়েনি।