সে কারণেই আমি নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে ছিলাম : একান্ত স্বাক্ষাতকারে ড. কামাল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৩৯:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০১৯
ড. কামাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ড. কামাল হোসেন; যার নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান। বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ্যাতিমান এই আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ বাংলাদেশের রাজনীতিতেও রেখেছেন অমূল্য ভূমিকা।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে  নব্বই দশকে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে এবং গণফোরাম নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম দিয়ে যথেষ্ট আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। গত বছরের ১৩ই অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি এবং কয়েকটি ছোট দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট ঘোষণা করে নির্বাচনে অংশ নেয়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনসহ সমকালীন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন দেশের একটি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টালের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি দি বাংলাদেশ টুডে’র পাঠকদের জন্যে হুবহু তুলে ধরা হলো:

ঐক্যফ্রন্ট একটি নির্বাচনী জোট ছিল। ব্যাপক অভিযোগের মাধ্যমে নির্বাচন শেষ হলেও এই জোট এখনো আছে কিনা?

ড. কামাল হোসেন: শনিবার (৫ জানুয়ারি) আমাদের মিটিং আছে। এসব বিষয়ে নিয়ে মিটিংয়ে আলোচনা হবে। ওই মিটিং ভবিষ্যৎ রাজনীতিসহ সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের কি কি কর্তব্য আছে-সেসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। ঐক্যফ্রন্ট এখনো আছি কী না- গতকাল পর্যন্ত জোট ছিল। আর এটা এখন আলোচনার সাপেক্ষ ব্যাপার। শনিবার বসে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো জোটের বিষয়ে। এরপরে অবস্থানটা কি থাকবে- তা মিটিংয়ে আলোচনা হবে।

প্রথমবারের মতো গণফোরামের দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা শপথ নেবেন কিনা?

ড. কামাল হোসেন: এ বিষয়ে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। শনিবার দলীয় মিটিং আছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 বিএনপি ৫ আসন জিতেছে। তাদের সংসদে যাওয়া উচিত কিনা? আপনি ব্যক্তিগতভাবে কি মনে করেন?

ড. কামাল হোসেন: এটা তাদের দলীয় বিষয়। এ নিয়ে আমার মন্তব্য করা উচিত হবে না। বিএনপি নেতৃত্ব যদি মনে করে সংসদে যাবে না তাহলে তারা সংসদে যাবে না। এটা পুরোপুরি তাদের দলীয় বিষয়।

অনেকেই বলেন, বিএনপি কোণঠাসা অবস্থায় ছিল। এমনকি নির্বাচনে মাঠে নামতে তাদের সামনে তেমন কোন নেতাও ছিল না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে আপনারা ইমেজ ও পরিচিত ব্যবহার করেই তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

ড. কামাল হোসেন: বিএনপি ব্যবহার করেছে কি না, তা বলতে পারবো না। তবে আমার মূল্য লক্ষ্য ছিল যে, আমাদের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কার্যকরভাবে রক্ষা করা। সেই কারণে নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ করা। যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া- সে প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখারাই লক্ষ্য ছিল। আমার সিদ্ধান্তের কারণ ছিল এটাই।

টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে সরকার আরো কঠোর হবে। সেক্ষেত্রে​ আগামী আন্দোলনের গতিপথ কি হবে? কীভাবে পরিচালিত হবে, আপনারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন কিনা?

ড. কামাল হোসেন: শনিবার মিটিংয়ে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

আপনি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তাকে কাছ থেকে দেখেছেন, অনেকেই বলেন আওয়ামী লীগ আপনার শেকড়। আগামীতে আওয়ামী লীগ কিংবা দলের সভাপতি​ শেখ হাসিনা যদি আপনাকে ফেরাতে চান বিষয়টিকে কিভাবে দেখবেন?

ড. কামাল হোসেন: আমি তো জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি সারাজীবন করেছি। এখনও করে যাচ্ছি। জাতীয় ঐক্য আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়েই করেছিলাম। আমি বলেছি, সব দলসহ আওয়ামী লীগ যাতে আমরা ঐক্যের রাজনীতি করি। আমি এখনো চাই এই ঐক্য গড়ে উঠুক।

ঐক্যফ্রন্ট থেকে কি কারণে বাদ পড়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরী? তার মহাজোটে যোগ দেওয়াকে কিভাবে দেখছেন?

ড. কামাল হোসেন: উনি তো স্বেচ্ছায় গিয়েছেন। আমি তো শেষ দিন পর্যন্ত বলেছি, উনি আমাদের সাথে আছেন। যখনই আসেন, হবেন। তারপরে তো সেখানে যোগ দিলেন। সেটা উনার দলীয় সিদ্ধান্ত।

বিএনপির একটি অংশ নির্বাচনে যাওয়ার তীব্র বিরোধী ছিল। তাদের কেউ কেউ বলেন, আপনি বিএনপি নির্বাচনে নিয়ে এসে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে সরকারকে সহায়তা করেছেন। এতে আন্তর্জাতিকভাবে আওয়ামী লীগের সুবিধা হয়েছে। বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন?

ড. কামাল হোসেন: আমি তো সারাজীবন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ব্যাপারে কাজ করে এসেছি। সেই কাজের জন্য আমি করি যে, নির্বাচন দেশে হলে, সেখানে অংশগ্রহণ না করলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখা আরো কঠিন হয়ে যায়। সে কারণেই আমি নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে ছিলাম।

সুত্র: বাংলাদেশ জার্নাল।