সৌদি আরব নিয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত জানাবেন বাইডেন

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১ | আপডেট: ৬:২০:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

সৌদি আরবকে নিয়ে মার্কিন প্রশাসন সোমবার একটি ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শনিবার এ কথা জানিয়েছেন তিনি। সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে- মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এ কথা জানালেন বাইডেন।

জানা যায়, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাইডেন প্রশাসন ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে। বিশেষ করে, ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক খাশোগি হত্যায় যুবরাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ সমালোচনা হচ্ছে।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, ৮৫ বছর বয়সী সৌদি বাদশাহ সালমানের অন্তরালে কার্যত শাসক যুবরাজ বিন সালমান। সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় যুবরাজের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নেবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, সাধারণভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে যা করতে যাচ্ছি, সোমবার সে বিষয়ে একটি ঘোষণা দেওয়া হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অবশ্য এই ঘোষণার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বাইডেন।

তবে সৌদির বিরুদ্ধে বাইডেন প্রশাসন থেকে নতুন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ আসবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা।

শুক্রবার মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় সৌদি আরবের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অনুমোদন দিয়েছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচক জামাল খাসোগিকে ধরে আনতে কিংবা হত্যা পরিকল্পনায় যুবরাজের সায় ছিল।

তিনটি কারণে যুবরাজের সবুজ সংকেত ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করে সৌদি গুপ্তচরেরা। পরে তার লাশ কেটে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমা বিশ্বে এমবিএস নামে পরিচিত যুবরাজ শুরু থেকেই হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের শাসনামলে সেটি আরও পোক্ত হয়। তবে বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিক খাশোগি হত্যা ও ইয়েমেন যুদ্ধ কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে শীতলতার আভাস স্পষ্ট হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশের পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদির নেতৃত্ব সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে নেতিবাচক, মিথ্যা এবং অগ্রহণযোগ্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই ‘বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের’ বিচার করেছেন সৌদি আরবের আদালত। যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের সাজাও হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আরাবিয়া ফাউন্ডেশনের সাবেক প্রধান আলি শিহাবি মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশের পর টুইটারে লিখেছেন, এই প্রতিবেদনে এমন কিছু নেই, যা আগে বলা হয়নি।

এ ছাড়া যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো কোনো তথ্যপ্রমাণ এতে নেই। যুবরাজের বিরুদ্ধে জোরালো কোনো প্রমাণ এই প্রতিবেদনে নেই।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এই প্রতিবেদন নিয়ে সৌদি আরবের সংবাদপত্র ও টেলিভিশনগুলো কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

সৌদির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আল আরাবিয়ায় শুধু সন্ধ্যার খবরে ছোট করে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু এতেও তথ্যপ্রমাণের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

তবে অধিকারকর্মীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানাচ্ছেন। তারা যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা চাইছেন।

জামাল খাশোগি হত্যার তদন্তে স্বচ্ছতা আনায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ডেমোক্রেসি ফর দ্য আরব ওয়ার্ল্ড নাউ।