সৌরজগতের রহস্য উদ্‌ঘাটনের আরেকটু কাছে

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০ | আপডেট: ২:২৬:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

সৌরজগতের জন্মরহস্য উদ্‌ঘাটনের আরেকটু কাছে পৌঁছে গেলো নাসা। সম্প্রতি নাসা দাবি করে তারা বেনু নামের একটি গ্রহাণু থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। আর এই নমুনার মধ্যে নিহিত আছে সৌরজগতের সৃষ্টিকালের গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক তথ্য।

গ্রহাণুটি সৌরজগতের সৃষ্টির সময়কালে সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিকরা তাই অনুমান করছেন যে, এই গ্রহাণুর মাটি পর্যালোচনা করলে বুঝা যাবে ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে সূর্য ও অন্যান্য গ্রহগুলো কোন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে।

নমুনাটি সংগ্রহ করার প্রক্রিয়াকে একটি বৈজ্ঞানিক মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ওসিরিস রেক্স নামে একটি নভোযানের মাধ্যমে ‘ট্যাগ-অ্যান্ড-গো’ বা ‘ছোঁ মেরে সরে যাওয়া’ পদ্ধতিতে নমুনাটি সংগ্রহ করা হয়।

উল্লেখ্য, বেনু নামের গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে ৩৩ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। গোলাকার এই গ্রহাণুর ব্যাস ৫০০ মিটার যা আইফেল টাওয়ারের দৈর্ঘ থেকে বেশি। ওসিরিস রেক্স নামের নভোযানটি সতর্কতার সঙ্গে সমবেগে বেনুর খুব কাছাকাছি যায়। এরপর নমুনা সংগ্রহকারী বিশেষায়িত নল বেনুর ভূমিতে ছেড়ে দেয়। নলটি ভূমির সঙ্গে আটকে গেলে রিভার্স ভ্যাকুম নামে একটি পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ করে। একবারের চেষ্টায় ৬০ গ্রাম থেকে এক কেজি পরিমান নমুনা সংগ্রহ করতে সক্ষম ওসিরিস রেক্স। নমুনা সংগ্রহ শেষ হলেই নভোযানটিকে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে হয়।

এবারের প্রচেষ্টায় কতখানি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। কেবল জানা গেছে যে নভোযানটি ছোঁ মেরে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে সক্ষম হয়েছে।

নভোযানের অ্যান্টেনা পৃথিবী অভিমুখে না থাকার কারণে নমুনার পরিমান বিষয়ক তথ্য পৃথিবীতে এখনও পৌঁছায়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই তথ্য নাসার কমান্ড সেন্টারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি নমুনার পরিমান আশাব্যাঞ্জক হয় তাহলে নমুনাটিকে পৃথিবীতে নিয়ে আসা হবে পর্যালোচনার জন্য।

নাসার এক টুইটার পোষ্টে দেখা যায় ওসিরিস রেক্সের বেনুর পৃষ্ঠে ছোঁ মেরে সফলভাবে দূরে সরে যাওয়ার মহূর্তে কমান্ড সেন্টারে প্রকৌশলীরা উল্লাসিত হয়ে পড়েন। নাসার বৈজ্ঞানিকদের জন্য এটি একটি আবেগঘণ মুহূর্ত ছিলো।

পরবর্তী তথ্যে যদি জানা যায় যে, এই প্রচেষ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা যায়নি, তাহলে দ্বিতীয় চেষ্টার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০২৩ সাল পর্যন্ত।

সৌরজগতের সহস্য উন্মোচনের এমন প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আরও কয়েকটি দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।