স্কুল জীবাণুমুক্ত ও কন্টেন্ট তৈরিতে ১২৮ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০ | আপডেট: ১:০২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন বন্ধ রাখা হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে সরকারি বিদ্যালয়গুলো অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।

ফলে এসব বিদ্যালয়ে নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ও হাইজিন, গুণগত মান, সবার জন্য সমান সুযোগ ও টেকসই ব্যবস্থায় ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করতে ১২৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ কোভিড-১৯ স্কুল সেক্টর রেসপন্স’। এই প্রকল্পের আওতায় স্কুলগুলোকে সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্ত করা হবে। বাথরুম, কমনরুমসহ সব জায়গা অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে। এগুলোকে আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া আনন্দ সহকারে শিক্ষা দানের জন্য ডিজিটার কন্টেন্ট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করা হবে সেখানেও। মোটকথা, নতুন রূপে স্কুল চালু করতে সরকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

বর্তমানে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৭টি। তার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬২০টি। এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার একশ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। যার মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৮৬০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৬ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৮ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩৮ লাখ ২৫ হাজার ২১৮ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

নতুন করে স্কুলে এসে এসব শিক্ষার্থী যাতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে সেই জন্যই ‘বাংলাদেশ কোভিড-১৯ স্কুল সেক্টর রেসপন্স’ প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ১২৮ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পটি শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। এই বিশাল উদ্যোগ বাস্তবায়নে ১২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অনুদান দেবে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (ডিপিই) বাকি টাকা সরকারি অর্থায়ন থেকে মেটানো হবে। চলতি সময়

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) রতন চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, আমরা আমাদের শিশু শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে কোনো প্রকার ঝুঁকি নিতে চাইনা। তাই স্কুল চালুর আগে সেগুলোকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও হাইজিনের ব্যাপারটাকে সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। করোনার কারণে এমনিতেই দীর্ঘ গ্যাপ তৈরি হয়েছে, স্কুল খোলার পর যেনো কেনো শিক্ষার্থীকে সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য আমরা সচেষ্ট।

তিনি আরো বলেন, ১ম থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত সব বিষয়ের ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করা হবে। সেখানে থাকবে ছবি ও সুন্দর সুন্দর ভিডিও। শিক্ষার্থীরা যাতে আনন্দ নিয়ে পড়তে পারে সে জন্যই এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ওই কন্টেন্ট শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে।