স্ত্রীকে হত্যার পর শ্যালিকাকে ধর্ষণপূর্বক ভিডিও ধারণের অভিযোগে দুলাভাই গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২১ | আপডেট: ৯:৩৬:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২১

শেখ দীন মাহমুদ,পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় বিবাহিতা শ্যালিকাকে পিত্রালয় থেকে শ্বশুর বাড়ীতে পৌছে দেয়ার কথা বলে মাইক্রোযোগে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে ব্ল্যাক মেইলিংয়ের অভিযোগে থানা পুলিশ দুলাভাই মশিউর রহমান (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে।

এর আগে গত ১৮ জানুয়ারী নিজ স্ত্রী রোকাইয়া ছিদ্দিকা রানীমাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে দিয়ে ডুবে মরছে বলে অপপ্রচার করে। এসব ঘটনায় মেয়েদের অসহায় পিতা রফিকুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নিজ বাড়ি উপজেলার কালুয়া থেকে অভিযুক্ত মশিউরকে গ্রেফতার করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার কালুয়া গ্রামের কামরুল ইসলাম সরদারের ছেলে মশিউর রহমানের সাথে প্রায় ৭ বছর আগে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক একই এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে রোকাইয়া ছিদ্দিকা রানীমার বিয়ে হয়। দাম্পত্যজীবনে তাদের ৪ বছরের একটা ছেলে রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। এক পর্যায়ে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারী রাত আনুমানিক ২ টার দিকে স্বামী মশিয়ার স্ত্রী রানীমাকে নিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর রানীমার পিতা রফিকুল ইসলাম বাথরুমে যায়। এসময় তিনি রানীমাকে ওযু করতে পুকুরে নামতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর তিনি বাইরে এসে রানীমাকে পুকুরে ভাসতে দেখে চীৎকার দিলে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। ঐসময় রানীমা পুকুরে ডুবে মরেছে বলেও অপপ্রচার চালায় তার স্বামী মশিউর। এক পর্যায়ে বড় মেয়ে রানীমা হত্যার মুল কাহিনী ধামাচাপা পড়ে।

এদিকে বড় মেয়ে মারা যাওয়ায় শোকাহত বাবাকে শান্তনা দিতে তার ছোট মেয়ে সোনিয়া প্রায়ই শ্বশুর বাড়ী থেকে পিত্রালয়ে আসতে থাকে। সর্বশেষ ঘটনার দিন ১১এপ্রিল মশিউর তার শ্যালিকা সোনিয়াকে তার শ্বশুর বাড়ী সাতক্ষীরার আশাশুণি থানার গোয়ালডাঙ্গা পৌছে দেওয়ার কথা বলে ইজি বাইকে উপজেলার কৈয়া সিটিবুনিয়ায় নামে। সেখান থেকে মাইক্রোবাস যোগে তাকে কাটাবুনিয়া নামক স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় মশিউর ধর্ষনের দৃশ্য মোবাইলে ধারন করে বলে সোনিয়ার পিতা রফিকুল বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। এসআই শহীদ বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে অভিযুক্ত মশিউরকে তার নিজ বাড়ী উপজেলার কালুয়া থেকে গ্রেফতার করেছেন।

অন্যদিকে এসব ঘটনায় সোনিয়ার স্বামী সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার গোয়ালডাংগা গ্রামের রেফাত গাজী তার স্ত্রী সোনিয়াকে বুধবার (২১ এপ্রিল) তালাকনামা পাঠিয়েছে বলে জানায় ঘটনার শিকার সোনিয়া।

এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানার ওসি (তদন্ত) মোল্যা খালিদ হোসেন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আসামী মশিউরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।