স্ত্রী হত্যা মামলার বাদী হয়েও, মূলহোতা হিসেবে গ্রেফতার হলো আলোচিত সাবেক এসপি বাবুল আক্তার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২১ | আপডেট: ৬:৪৬:অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২১

ইকবাল হোসেন, নগর প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম : বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে পিবিআই কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এসে এক পর্যায়ে আটক দেখানো হয়েছে আলোচিত পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার কে। এস পি বাবুল স্ত্রী হত্যা মামলার বাদী হলেও বাবুলের শ্বশুরের অভিযোগ তার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জড়িত জামাই বাবুল আক্তারই।

পাঁচ বছর আগে চট্টগ্রামে স্ত্রী মিতু হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সাবেক এই এসপিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা থেকে নেওয়ার পর মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পিবিআই তাকে গ্রেফতার করে।

চট্টগ্রামের ডিবি পুলিশের কাছে মামলাটির তদন্ত ভার দেয়া হয় পিবিআইকে। প্রায় তিন বছর ১১ মাস পরেও ডিবি পুলিশ চার্জশিট দিতে না পারায় ডিবি পুলিশের কাছ থেকে আদালত তদন্ত হস্তান্তর করে পিবিআইয়ের হাতে।

পিবিআইয়ের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মামলার বাদী হিসেবে বাবুল আক্তার মঙ্গলবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী পিবিআইয়ের কার্যালয়ে উপস্থিত হন সকাল ১০টায়। তিনি মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এটাকে জিজ্ঞাসাবাদ বা তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া, যে কোনো কিছুই বলা যেতে পারে। সন্ধ্যায় পিবিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বাবুল আক্তারকে আটক দেখানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার ১২ মে তাকে আদালতে হাজির করে গ্রেফতারের আবেদন করা হয়েছে বলে জানান পিবিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা, তারা আরো জানান মিতু হত্যা মামলার বাদি তার স্বামী বাবুল আক্তার। এ কারণে তাকে গ্রেফতার করার বিষয়টি আদালতের নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬, ৫ই জুন সকাল বেলা ৭টা ১৭মিনিটে নগরীর জিইসির মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। মোটরসাইকেলে আসা তিন হামলাকারী মিতুকে প্রথমে গুলি পরে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ঘটনার দিন বাবুল আক্তার বদলি জনিত কারণে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। যে দিন নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা সেদিনই এ মর্মান্তিক হত্যা কান্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল, গত কয়েক বছরে চাকরিকালীন সময়ে চট্টগ্রামে জঙ্গি দমন অভিযানে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন বাবুল আক্তার এ কারণে জঙ্গিদেরই টার্গেটে ছিলেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

হত্যার দিন ঘাতকের সঙ্গে ২৭ সেকেন্ডের ফোনালাপই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মামলার বাদীকেই আসামির মুল হোতায় পরিচিতি পাইয়ে দেয়। বর্তমানে ২৭ সেকেন্ডের সেই কল রেকর্ডেই এই মামলার প্রধান আলামত ও সাক্ষী। কি ছিল এ রেকর্ডে হত্যার দিন সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে বাবুলের ফোন থেকে কল যায় মুসার মোবাইলে, বাবুল জান্তে চাইচ্ছিল “তুই কোপালি কেন !! ”

২০১৬ সালের ২৪ জুন বাবুল আক্তারের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ডিবি পুলিশ ঐ বছরের ২৬ জুন আনোয়ার ও মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম নামে দুজনকে গ্রেপ্তারের করে। তারা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলে, কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুছার ‘পরিকল্পনাতেই’ এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। জবানবন্দিতে ওয়াসিম জানায়, নবী, কালু, মুছা ও তিনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়। হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সামনে ছিল মুসা, এরপর আনোয়ার ও একদম পেছনে ছিল সে। মোটরসাইকেলের পিছন থেকে সে প্রথমে মিতুকে গুলি করে। জিইসির মোড়ে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা নবী তার বুকে, হাতে ও পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। পুরো সময়টা বাবুল আক্তারের ছেলেকে আটকে রেখেছিল মুসা।

এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা চলে যায়। পরে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই আসামি নূরুন্নবী ও রাশেদ পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মুছাসহ দুইজন আসামি গুম হয়ে গেছে। এই মামলায় বর্তমানে ওয়াসিম ও আনোয়ার গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দী। নবী, কালুসহ ৩ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।