স্বচ্ছ ছবি প্রকাশ ‘জান্নাতি’ পাথর হাজরে আসওয়াদের

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২১ | আপডেট: ৪:৫৫:অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২১

‘হাজরে আসওয়াদ’—কাবাঘরের দেয়ালে বিশেষভাবে স্থাপনকৃত একটি পাথরের নাম। আরবি ‘হাজর’ শব্দের অর্থ পাথর আর ‘আসওয়াদ’ শব্দের অর্থ কালো। অর্থাৎ কালো পাথর। ‘হাজরে আসওয়াদ’ বেহেশতের মর্যাদাপূর্ণ একটি পাথর। হজযাত্রীরা হজ করতে গিয়ে এতে সরাসরি বা ইশারার মাধ্যমে চুম্বন দিয়ে থাকেন।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কাবা শরিফে অবস্থিত হাজরে আসওয়াদের (পবিত্র কালো পাথর) এর স্ফটিক স্বচ্ছ ছবি তুলেছেন সৌদি আরবের কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সময় সোমবার (৩ মে) সৌদি তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এক বিবৃতিতে বলেন, ৪৯ হাজার মেগাপিক্সেলের এই ছবিগুলো তুলতে ৭ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

তিনি বলেন, পবিত্র কালো পাথরটি যেহেতু ‘জান্নাতের পাথর’, প্রথমবারের মতো উচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবিগুলো এই বার্তা দিচ্ছে যে জান্নাত কত সুন্দর হবে।

প্রসঙ্গত, হাজরে আসওয়াদ হলো একটি কালো রঙের প্রাচীন পাথর যা কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মাতাফ থেকে দেড় মিটার (চার ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী এই পাথর আদম ও হাওয়ার সময় থেকে পৃথিবীতে রয়েছে।

ইসলাম ধর্মের শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) এর সময়ে পবিত্র কাবাঘর পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদকে আগের জায়গায় কে বসাবেন— এ নিয়ে কুরাইশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধেছিল। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজের গায়ের চাদর খুলে তাতে হাজরে আসওয়াদ রেখে সব গোত্রপ্রধানকে চাদর ধরতে বলেন এবং দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তি ঘটান।

এই পবিত্র পাথরের দৈর্ঘ্য ৮ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৭ ইঞ্চি। বর্তমানে এটি আট টুকরো। হজরত আবদুল্লাহ বিন জোবায়েরের শাসনামলে কাবা শরিফে আগুন লাগলে হাজরে আসওয়াদ কয়েক টুকরা হয়ে যায়। আবদুল্লাহ বিন জোবায়ের পরে ভাঙা টুকরাগুলো রুপার ফ্রেমে বাঁধিয়ে দেন। বর্তমানে হাজরে আসওয়াদের আটটি টুকরা দেখা যায়। বড় টুকরাটি খেজুরের সমান।