স্বজনদের খোঁজে এসে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেলেন ডেনমার্কের নারী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৫৯:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহীত

ডেনমার্কের নাগরিক ক্যারোলিন লরিটসেন (৪৭) ৪৪ বছর পর স্বজনদের খোঁজে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে এসে ব্যর্থ মনোরথে ফিরে গেছেন।

বাংলাদেশে ১০ দিন অবস্থানকালে নিজের বংশ পরিচয় জানতে ৩১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে আসেন এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বাসুটিয়া গ্রাম ঘুরে সোমবার ডেনমার্কে ফিরে যান।

এই দেশে জন্মেছেন বলে নিজের নামের সাথে ‘আমেনা’ যুক্ত করে নাম রেখেছেন ‘ক্যারোলিন আমেনা লরিটসেন’। শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে আসেন ক্যারোলিন। উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি গল্পের মতো তার জীবনকাহিনী বর্ণনা করেন।

ক্যারোলিন জানান, ১৯৭২ সালে তার জন্ম বাংলাদেশে। বয়স যখন দুই বা তিন বছর তখন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ‘আমেনা’ নামে তাকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সুস্থ্য হলেও কেউ তাকে নিতে আসেনি। এরপর তাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের একটি শিশু পল্লীতে পাঠান।

মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে বন্যা ও দুর্ভিক্ষের ঘটনাবলি ড্যানিশ মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে ডেনমার্কের লরিটসন দম্পতি তাকে দত্তক গ্রহণে উৎসাহিত হন। ১৯৭৫ সালের ১৩ নভেম্বর শিশু পল্লী থেকে আমেনাকে দত্তক নেন ডেনমার্কের ওই দম্পতি।

ডেনমার্কেই বড় হয়েছেন ক্যারোলিন। সে ডেনমার্কে দত্তক গৃহীত প্রথম বাংলাদেশি শিশুদের মধ্যে অন্যতম। ক্যারোলিনের দত্তক বাবা-মা মারা গেছেন। ১৭ বছর আগে মা এবং কয়েক বছর আগে বাবা ক্যান্সারে মারা গেছেন। সে এখন মানবাধিকারকর্মী। ডেনিশ দ্বীপপুঞ্জের একটি ছোট্ট শহর ও দ্বীপের মধ্যে তার শৈশব কাটিয়েছেন।

ফেইই নামে সাত বছর বয়সী তার একটা মেয়ে আছে। তবু প্রায়শই স্বজনদের অভাববোধ করেন। তার ধারণা, তার বাবা-মা কেউ হয়তো বেঁচে নেই। তাই তাদের খোঁজ নেবার তেমন কোনো আগ্রহ জাগেনি। তবে স্বজনদের সন্ধান করতে ক্যারোলিন একটি ডিএনএ নমুনা কিট সংগ্রহ করেন এবং তার জিন কোডটি তিনটি ওয়েবসাইটে আপলোড করেন।

গত আগস্ট মাসে আমার তৃতীয় কাজিন হিসেবে ডিএনএ মিলে যায় কানাডা প্রবাসী এক বাংলাদেশী রবিউল বাসার উজ্জ্বলের সাথে। তাকে ই-মেইল করলে সে জানায় তার পৈতৃক নিবাস ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বাসুটিয়া গ্রামে। সেই সূত্র ধরেই তিনি শুক্রবার ময়মনসিংহে আসেন।

ক্যারোলিন বলেন, ‘আমার কাগজপত্রগুলিতে বলা হয়েছে যে ময়মনসিংহের একটি হাসপাতালে আমি যখন দুই বছর বয়সে ছিলাম, তখন কেউ আমার খোঁজে আসেনি। যে কারণে আমাকে টেরে দেস হোমসের আশ্রয়স্থলে পাঠানো হয়েছিল। ২০১৪ সালের অক্টোবরে ময়মনসিংহের ৭৮ বছর বয়সী আকতার জাহান রহমানের সাথে ক্যারোলিনের সাথে মেলামেশা হয়েছিল। আক্তার জাহান রহমান এখন অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। তিনি আমাকে স্বজনদের জন্য আগ্রহী করে তুলেন।’

তিনি বলেন, ’আমি ভাবতাম এমন একজনকে যদি পাই, যিনি তার সন্তানকে ওই সময় হারিয়েছেন বা ময়মনসিংহে হাসপাতালে খুঁজে পাননি। আমিও আমার বাবা-মা বা আমার পরিবারকে জানতে চাই, এবং জানতে চাই কোথায় আমার জন্ম।’ তবে এবার সন্ধান না পেলেও তিনি আশাবাদী। বংশ পরিচয় খোঁজার ফলে তার ভাইবোন ও স্বজনদের খোঁজে পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।

তিনি বলেন, ’যদি আমার বাবা-মা খুব ভালো থাকেন তাতে মোটেই আবেগী হবো না। আমি শুধু তাদেরকে একনজর দেখতে চাই। আর যদি তারা খারাপ অবস্থায় থাকে তবে আমার দুঃখবোধ বাড়বে।’

ময়মনসিংহে রবিউল বাসার উজ্জ্বলের ছোট ভাই কাওসার তাকে সঙ্গ দেন। ক্যারোলিনকে ময়মনসিংহ শহর দেখান। জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের সাথেও দেখা করান। জেলা প্রশাসকের পরামর্শে তিনি ক্যারোলিনকে নিয়ে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের নিকট নিজের জীবনকাহিনী তুলে ধরেন। গ্রামের বাড়ি বেড়াতো নিয়ে যান।
Add Image