স্বাধীনতা কোনো দলের নয় : ফখরুল

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১ | আপডেট: ৮:২৬:অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন করে অঙ্গীকারের কথা বলেন মির্জা ফখরুল। গুলশানে হোটেল লেকশোরে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আয়োজনে বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলোয়াত এবং পরে দলের শিল্পীরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এ সময়ে সকলে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি এবং একাত্তরের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সন্মান প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই স্বাধীনতা কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। এই স্বাধীনতা এদেশে যারা সোনালী ফসল ফলায়, যারা পণ্য উৎপাদন করে, যারা শ্রম দিয়ে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে তাদের সকলের। বিদেশি প্রবাসী শ্রমিক ভাইয়ের, গার্মেন্টসে কর্মরত মা-বোনের, ক্ষেতে রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা কৃষকের, ছাত্র-যুবক সকল পেশাজীবীর। আসুন এই পঞ্চাশ বছর পরে আমরা নতুন করে শপথ নেই- ১৯৭১ সালের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের। যা আমাদের একটি উদার গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এগিয়ে নিয়ে যাবে অন্ধকার থেকে আলোর জগতে।’

জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম-স্বাধিকার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শেরে বাংলা ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ রণাঙ্গনের শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন , ‘এই স্বাধীনতা আমাদের জনগণের স্বপ্নের ফসল। এই স্বাধীনতা আমাদের নিজস্ব একটা রাষ্ট্র নির্মাণ করার আকাঙ্ক্ষার ফসল, এই স্বাধীনতা আমাদের কৃষক-কৃষাণীর, ছাত্র-ছাত্রী, পেশাজীবী-ব্যবসায়ীদের ঘামের ফসল, অনেক ত্যাগ-তিতীক্ষার কষ্টের আত্মবলীদানের মহান গৌরবের সম্পদ। একটি গণতান্ত্রিক সমাজ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করার স্বপ্ন এই স্বাধীনতা।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখন সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি তখন শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের চক্রান্ত চলছে। বর্তমানে অনির্বাচিত কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী সরকার এই চক্রান্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার চেতনা আজকে ভুলুণ্ঠিত। একদলীয় শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্রের ভুয়া মোড়কে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। ভোটারবিহীন নির্বাচন, নির্বাচনের আগের রাতে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে পার্লামেন্ট ও সরকার গঠন করা হয়েছে। আমাদের স্বাধীনতার সকল আশা ভেঙে খানখান করেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই ৫০ বছরে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা দূরে থাকুক আরও বিভক্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতাকে সংহত করার চেয়ে আরও দুর্বল করা হয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে চুরমার করা হয়েছে। এমন একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র গঠন করা হচ্ছে যেখানে ন্যায়বিচার দুষ্প্রাপ্য। বৈষ্যম আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভ্রান্ত ইতিহাস জানিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সুবর্ণজয়ন্তীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে সেই সত্যকে অবধারিত করতে চাই, স্পষ্ট করতে চাই- যে সত্য আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও যুদ্ধকে মহিমান্বিত করেছিল, আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মকে আবারও সেই স্বপ্ন দেখাতে চাই-মুক্ত স্বদেশে, মুক্ত সমাজে, মুক্ত মানবিক কল্যাণময় রাষ্ট্রে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিক সামাজিক বৈষম্য দূর করতে চাই। আজকের যে শিশু তার জন্য একটি কল্যাণময় ভালোবাসার পৃথিবী গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখাতে চাই। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যাদের যে অবদান তা তুলে ধরতে চাই, তাদের সকলকে সম্মানিত করতে চাই।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলোয়াত এবং পরে দলের শিল্পীরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা করে। এসময়ে সকলে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি এবং একাত্তরের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিএনপির সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বলের পরিচালনায় শিল্পীরা দলীয় সঙ্গীত, কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর থিম সং এবং শিল্পী রেখা সুফিয়ানা, ইথুন বাবু এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বেবী নাজনীন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশ করেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব আবদুস সালামের পরিচালনায় উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর বীরোত্তম, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিক্রম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহি বীর প্রতীক বক্তব্য রাখেন।

বর্ণাঢ্য এই উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল আলম চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন ফারুক, উকিল আব্দুস সাত্তার, ভিপি জয়নাল আবেদীন, আবদুল কাইয়ুম, শাহিদা রফিক, আব্দুল কুদ্দুস, মামুন আহমেদ, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিজন কান্তি সরকার, সুকমল বড়ুয়া, এনামুল হক চৌধুরী, খন্দকার মুক্তাদির, মজিবুর রহমান সারোয়ার, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আসাদুজ্জামান রিপন ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, বিলকিস জাহান শিরিন, জহিরউদ্দিন স্বপন, নাজিম উদ্দিন আলন, শিরিন সুলতানা, নাসের রহমান, ইশরাক হোসেন, খন্দকার মারুফ হোসেন, প্রচার ও মিডিয়া কমিটির শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, আমিরুল ইসলাম আলীম, মীর হেলালউদ্দিন, আতিকুর রহমান রুমন, শায়রুল কবির খান, মাহমুদা হাবিবাসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে মোস্তফা জামাল হায়দার, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, রেদোয়ান আহমেদ, আহমেদ আবদুল কাদের, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খন্দকার লুতফুর রহমান, সাইফুউদ্দিন মনি, সাহাদাত হোসেন সেলিম, আজহারুল ইসলাম, সৈয়দ এহসানুল হুদা, আবু তাহের, শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, ফারুক রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাসহ শরিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, তুরস্ক, জাপান, জাতিসংঘ, ইউএসএইড, আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।