স্বামীকে তালাক না দেয়ায় শিশু খুনের দায় সৎ মায়ের বিরুদ্ধে!

শহিদ জয় শহিদ জয়

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৯ | আপডেট: ৯:০৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

যশোর প্রতিনিধি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের দৌলতদিহি গ্রামে মাহবুর হোসেন (৪) নামে শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। মৃতের মায়ের দাবি, তার স্বামী ও সতীন পরিকল্পিত ভাবে তাকে হত্যা করেছে।

মৃতের মামা ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, ছয় বছর আগে যশোর সদর উপজেলার দৌলতদিহি গ্রামের আব্দুর রহমানের সাথে চৌগাছার কাকড়িয়ার আবুল হোসেনের মেয়ে জ্যোৎস্না খাতুনের সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। সাংসারিক জীবনে তাদের ছেলে মাহবুর হোসেন (৪) ও মেয়ে মারিয়া খাতুন (১) ছিলো।

এর আগে আব্দুর রহমানের সাথে চাঁনদিনা নামে এক নারীর বিয়ে হয়। সাত বছর আগে সাংসারিক বিরোধের কারণে তাদের ছাড়াছাড়ি হলে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসাবে জ্যোৎস্না খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের প্রথম সাংসারিক জীবনে মারুফ হোসেন (৭) ও মীম খাতুন (১১) নামে দু’সন্তান রয়েছে।

ছয় মাস আগে আব্দুর রহমান ও চাঁনদিনা প্রেম সম্পর্কের মাধ্যেমে আবারও বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ওই সময় দ্বিতীয় স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুন তার ছোট মেয়ে মীমকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। আর বড় ছেলে মাহবুর হোসেন পিতার সাথে থাকতো। প্রায় সময় ছোট স্ত্রীকে তালাক দেয়ার জন্যে আব্দুর রহমান মোবাইলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো।

শুক্রবার বিকেলে আব্দুর রহমান তার ছোট স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তাদের ছেলে অসুস্থ। সন্ধ্যায় জ্যোৎস্না খাতুন আব্দুর রহমানের বাড়িতে এসে জানতে পারেন, তার বড় ছেলে মাহবুব হোসেন শ্বাসকষ্টে মারা গেছে।

এসময় জ্যোৎস্না খাতুনের অভিযোগ করে বলেন, প্রথম স্ত্রী চাঁদদিয়ার সাথে আব্দুর রহমান নতুন করে সংসার করতে তার ছেলে মাহবুর হোসেনকে স্বামী ও সতীন মুখে কীটনাশক ডেলে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছেন।

আব্দুর রহমান জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভুগছিলো। ছোট থেকেই ছেলেকে বারীনগরের এক ডাক্তারের কাছে দেখিয়ে আসছিলেন। শুক্রবার ভ্যান যোগে বারীনগর বাজার থেকে ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার সময় ঠিক পায় তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বা তার প্রথম স্ত্রী মাহবুরকে হত্যা করেনি। শ্বাসকষ্টে তার মৃত্যু হয়েছে।

সাজিয়ালী ফাঁড়ির এসআই আনিছুর রহমান আনিস জানিয়েছেন, মৃত্যুতে রহস্য আছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসবার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু দায়ের করা হয়েছে।