স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে শহরের মানুষ ফিরছে হাওরাঞ্চলের নিজ নিজ গ্রামে

বাড়ছে করোনা ঝুঁকি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২১ | আপডেট: ৯:৪৫:অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২১

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি : কাজের সন্ধানে শহরে যাওয়া কর্মহীন হাওরাঞ্চলের মানুষ ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এবার শহর ছেড়ে দলবেঁধে ফিরতে শুরু করেছে গ্রামের বাড়িতে। ফলে থেমে নেই বাড়ি ফেরা। স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে করোনার ভয় আর পথে পথে নানা দুর্ভোগ উপেক্ষা করে বাড়ছে গ্রামমুখী মানুষের ঢল। সড়কে দ‚রপাল্লার গণপরিহন না চলায় তাদের যেতে হচ্ছে ভেঙে ভেঙে লোকাল পরিবহনে কিংবা প্রাইভেট গাড়ি রিজার্ভ করে।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন পরিবহনে যাওয়ার ফলে বেড়েছে যাতায়াত খরচ। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে যাওয়ার কারণে বাড়ছে করোনার ঝুঁকিও।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বাড়িতে যাওয়ার জন্য মানুষ কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। দলবেঁধে গাদাগাদি করে গ্রামে ফেরার খেসারত ঈদের পর পরই দিতে হবে বলেও আশঙ্কা তাদের।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহন না করার ফলে গ্রামে বাড়ছে করোনা ঝুঁকি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জানাযায়,হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় রাজধানী ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ,নরসিংদী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় কর্মরত মানুষজন আসছে দেশের বিভিন্ন জেলা,উপজেলার প্রতন্ত্য গ্রামের নিজ বাড়িতে। সাপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে জেলার দিরাই,শাল্লা,দোয়রাবাজার,জামালগঞ্জ,বিশ্বম্ভরপুর,ধর্মপাশা,সুনামগঞ্জ সদর,দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বাসিন্দা, জগন্নাথপুর, ছাতক, তাহিরপুর উপজেলায় শ্রমিকসহ নানান শ্রেনী পেশার মানুষ এক এক করে শহর ছেড়ে সবাই গ্রামে ফিরছে নারীর টানে ট্রাকসহ বিভিন্ন ভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই। এর পূবেও অনেকেই প্রবেশ করেছে গ্রামে।

জেলার শহরের স্থানীয় বাসীন্দাগন জানান,গত এক সাপ্তাহে দু-শতাধিক মানুষ ঢাকা,গাজীপুর,নারায়ণগঞ্জ,খাগড়াছড়ি,চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন আরো আসার পথে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় শহর থেকে আগতরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধে চলাফেরা করছে। এতে করে প্রশাসন কঠোর নজরধারী না বাড়ালে করোনা ঝুঁকি বাড়বে বলে মনে করছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন,মানুষের এই গাদাগাদি করে গ্রামে যাওয়ার কারণে ভাইরাসটি সারা দেশের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়বে। যার প্রকাশ ঘটবে ঈদের দুই সপ্তাহ পর। এ সময় দেশে আঘাত আনতে পারে করোনার তৃতীয় ঢেউ। আর সব ভয়কে বাস্তবে রূপ দিয়ে দ্রæত ছড়িয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করা ভারতীয় করোনার ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) এরই মধ্যে দেশে ধরা পড়েছে। ভাইরাসটি যদি পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে অবস্থা ভয়াবহ হবে।

তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামগুলোতে খবর নিয়ে জানা যায়,এক ফসলী বোরো ধান উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল ও দিন মজুর পরিবার। বার বার ফসল ডুবিসহ নানান কারনে শ্রমিক পরিবার কর্মহীন হওয়ায় ঢাকা, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহর মুখি হয়। আর বর্তমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শহরের কর্মক্ষেত্র নানান জটিলতার কারনে তারা দলবেঁধে বৈশাখ মামের শুরুতে ও এখন নিজ নিজ গ্রামে ফিরতে শুরু করেছে। এদিকে ভারত সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার হওয়ায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুভার্বের আশংকায় এবং করোনার নতুন ভাইরাস ভেরিয়েন্ট নিয়ে উৎবেগ আর উৎকণ্ঠার রয়েছে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর,উত্তর বড়দল,দক্ষিন বড়দল,বাদাঘাট ইউনিয়নের সীমান্তে বসবাসকারীরা।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইকবাল হোসেন বলেন,নতুন করে এ উপজেলায় ১জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের লক্ষন পাওয়া গেছে। সবাইকেই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সজাগ থাকতে হবে।

তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন,আমরা সবাইকে করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দুরত্ব মেনে চলাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করার জন্য বলছি এছাড়াও কঠোর নজরদারী রয়েছে। যদি কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ জানান,স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য আমি সবাইকেই সর্তক করছি। এর ব্যাথয় ঘটলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন,বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি সহ সকল নিয়ম মেনে চলতে হবে। তা না হলে ক্ষতি টা আমাদের হবে। নিজ ও পরিবারের সুক্ষার জন্য সবাই সর্তকতা অবলম্বন করে চুলুন। নিজে বাচুন আর অন্যকেও বাঁচান।