স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩৫ হাজার পদ শূন্য

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮ | আপডেট: ২:১২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নয়টি বিভাগে অনুমোদিত পদ মোট জনবলের পদ রয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৬১টি। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ১৫৭টি পদ শূন্য রয়েছে। যা মোট পদের প্রায় ৩৪%। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

১৮ আগস্ট দৈনিক বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জনবলের বিশাল সংখ্যক শূন্য পদ থাকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা প্রদান বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে জনগনের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাত দিয়ে জানায়, মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মোট নয়টি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ শূন্য রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন এ অধিদপ্তরে ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০টি অনুমোদিত পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২৭ হাজার ১০৬টি।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে মোট ৩২৪টি পদের মধ্যে ১৭০টি, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে ৪৩০টি পদের মধ্যে ৯০টি, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ৬১৯টি পদের মধ্যে ১২৮টি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে ৩৪ হাজার ৫৯৯টি পদের মধ্যে ৭ হাজার ৬০১টি, ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেইনিং সেন্টারে (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) ৯৫টির মধ্যে ৩২টি, ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স অর্গানাইজেশনে (টেমো) ৭৫টির মধ্যে ২৫টি ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটে ২৯টির মধ্যে ৫টিসহ মোট ৩৫ হাজার ১৫৭টি পদ শূন্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শূন্য থাকা পদের মধ্যে রয়েছে জেলা কর্মকর্তার ২০টি, প্রথম শ্রেণির ৪ হাজার ৮২৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৭ হাজার ৯৩৫টি, তৃতীয় শ্রেণির ১৪ হাজার ১৮৬টি ও চতুর্থ শ্রেণির ৮ হাজার ১৯২টি। এরই মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোয় রাজস্ব খাতে নিয়োগ না দিয়ে অস্থায়ী রাজস্ব খাত বা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সে অনুযায়ী বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় এসব পদে নিয়োগ শুরু হয়েছে। তবে রাজস্ব খাতের পরিবর্তে আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগ নিয়ে অনেক কর্মচারীর অসন্তোষ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে সামরিক আইন অসাংবিধানিক ঘোষণা হওয়ায় সামরিক সরকারের আমলে প্রণীত বিধিবিধানগুলো রদ হয়ে পড়ে। এ কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে ১৯৮৫ সালের নিয়োগবিধিটি বাতিল হয়ে যায়।

এর জেরে দীর্ঘদিন অধিদপ্তরে নতুন জনবল নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় নতুন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করেছে, যা চলতি বছরের ২৪ মার্চ গেজেট আকারে প্রকাশ হয়েছে। তবে নতুন নিয়োগবিধির বেশকিছু সুপারিশ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

এদিকে অনুমোদিত পদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শূন্য থাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলোয় জনবল সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে। বিশেষত সারা দেশের মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে সেবাদান মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

এরই মধ্যে বিভিন্ন সময়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যা বাড়ানোর কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য ও বিশ্বস্বাস্থ্য) হাবিবুর রহমান খান বণিক বার্তাকে বলেন, ২০১৩ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় সামরিক সরকারের আমলের অনেক অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যায়।

এরপর নতুন নিয়োগবিধি তৈরি না করা পর্যন্ত নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে এরই মধ্যে নিয়োগবিধি সম্পন্ন হয়েছে। জনবল নিয়োগ-প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই শূন্য পদ পূরণ করা হবে বলে জানান তিনি।