‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূর্খতায় আমি হতবাক’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০ | আপডেট: ৬:৫৪:অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

দেশের এক জনপ্রিয় অনলাইনের সাথে আলাপকালে সাবেক স্বাস্থ্যসচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন বলেছেন যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূর্খতায় আমি হতবাক। প্রথম থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভুল পথে চলছে এবং এখনো ভুল করে যাচ্ছে। দেশের করোনা পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে সাবেক স্বাস্থ্যসচিব এই মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য যে, এম এম নিয়াজউদ্দিন ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে স্বাস্থ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এবং মোহাম্মদ নাসিমের মন্ত্রিত্বে সচিব হিসেবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্বাস্থ্যসচিব হিসেবে তিনি আলোচিত এবং সমালোচিত ছিলেন।

এম এম নিয়াজউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে তাতে বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণ কোটির কোঠা ছাড়িয়ে যাবে এবং হাজার হাজার মানুষ মারা যাবে। শেষ পর্যন্ত করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করার লোক পাওয়া যাবে কিনা তাই নিয়ে আমি সন্দিহান। তিনি বলেন যে, করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুরু থেকে মূর্খতার পরিচয় দিচ্ছে এবং ভুল বার্তা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যারা চালাচ্ছে তাঁরা যেমন মূর্খ, তেমনি যারা শিক্ষিত এবং যারা জানেন তাদের পরামর্শ নিচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ঙ্কর হচ্ছে।

সাবেক এই স্বাস্থ্যসচিব বলেন যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে যারা বসে আছেন তাঁরা জনস্বাস্থ্যের কিছুই বোঝেন না এবং যারা এই সম্পর্কে অভিজ্ঞ, যারা এটা বোঝেন- তাঁদের পরামর্শও নেওয়া হচ্ছেনা।

নিয়াজউদ্দিন বলেন যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতে প্রথম থেকেই ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল যে, করোনা একটা সময়ে পিকে উঠবে এবং আস্তে আস্তে সংক্রমণের মাত্রা নেমে যাবে। এই ভুল বার্তা তাঁরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও দিয়েছিল। কিন্তু সারাবিশ্বের বিশেষজ্ঞ অন্যান্যদের যে পরামর্শ এবং যে বক্তব্য তা শুনে থাকলে জানবেন যে, করোনা এমনি এমনি চলে যায় না। এই পিক হিসেব করা হয় যখন একটি দেশ পুরোপুরি লকডাউন থাকে। লকডাউন থাকলে করোনা সংক্রমণ একটা পর্যায়ে পিকে পৌঁছায় এবং একটা সময় ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কিন্তু আমাদের যে সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছিল তা মোটেও কার্যকর ছিলোনা। এক ধরণের প্রহসন হয়েছিল। কারণ এই ছুটিতেই গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়েছিল। এই ছুটিতেই কলকারখানা, দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে আমাদের সামাজিক সংক্রমণ রোধের কোন উপায়ই কাজে লাগেনি।

সাবেক এই স্বাস্থ্যসচিব মনে করেন যে, এই পরিস্থিতিতে এখন দরকার হলো কঠোরভাবে অন্তত ১৫ দিনের জন্য কারফিউয়ের মতো লকডাউন। কেউ বের হতে পারবে না; বের হলেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহলে আমরা একটি পিকে পৌঁছাতে পারবো এবং সেখান থেকে নামতে পারবো। নাহলে বাংলাদেশে কোটি-কোটি মানুষ আক্রান্ত হবে এবং আমাদের পরিস্থিতি দুর্বিষহ হবে।

স্বাস্থ্য খাতের দূর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে যারা আছেন তাঁরা দূর্নীতি না করলে এভাবে দূর্নীতি হতে পারেনা এবং এই দূর্নীতি শীর্ষ পর্যায় থেকে লালিত-পালিত হয়। তিনি বলেন যে, এখন দেশের সেবা করাই সবথেকে মহৎ কাজ। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যখন দেশের কাজ না করে দূর্নীতিতে মত্ত থাকছে, তখন সেটা দূর্ভাগ্যজনক। নিয়াজউদ্দিন বলেন যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে কর্মকাণ্ড, সেই কর্মকাণ্ডগুলো প্রমাণ করেছে যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সীমাহীনভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, পুরো দেশকে তাঁরা ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন এই সাবেক স্বাস্থ্যসচিব।

সুত্র: বাংলা ইনসাইডার।