স্যামসাং প্রধানের কারাদণ্ড

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১ | আপডেট: ৮:৫৯:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

দুর্নীতির দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রভাবশালী ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস প্রস্তুতকারক ও পরিবেশক স্যামস্যাংয়ের প্রধান লি জা ইয়ং-কে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সিউল হাইকোর্ট এ রায় দেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি ও সিনহুয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে তৎকালীন কোরীয় প্রেসিডেন্টকে ৭৮ লাখ ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে প্রথম গ্রেপ্তার হন লি। স্যামসাং গ্রুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গুয়েন হাইকে ঘুষ দিয়েছিলেন, এমন অভিযোগের পাশাপাশি তহবিল আত্মসাৎ এবং অন্যান্য অভিযোগে লিকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন আদালত।

দক্ষিণ কোরিয়ার হাইকোর্ট সোমবার (১৮ জানুয়ারি) তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ মাসের কারাদণ্ড দেন। ২০১৪ সালে লির বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন থেকে স্যামসাংয়ের প্রধানের দায়িত্ব কার্যত ছিল লির হাতেই এবং তাকে বিবেচনা করা হচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ প্রধান হিসেবে।গত বছর তার বাবার মৃত্যু হয়। দণ্ডিত হওয়ার কারণে স্যামসাংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে সরে যেতে হতে পারে লিকে। এতে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা তৈরি হতে পারে।

স্যামসাং সাম্রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স, যেটির প্রধান জেই ওয়াই লি। এই প্রতিষ্ঠানটির আয় দেশটির জিডিপির ১২ ভাগের সমান। ২০১৫ সালে স্যামসাংয়ের দুটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান একত্রীকরণের মাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। স্যামসাং গ্রুপের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে লির যে পরিকল্পনা ছিল, ওই একত্রীকরণ তাতে সহায়তা করেছে, এমন আঁতাতের প্রমাণ পাওয়ায় আগেই জেল খেটেছেন লি।

ওই অপরাধের সঙ্গে নতুন আরও কিছু নতুন অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় গত গত বছরের মাঝামাঝি লির বিরুদ্ধে আদালতের কাছে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করেন সরকারি কৌঁসুলিরা। সে সময় জামিন পেয়েছিলেন লি।

২০১৭ সালের অগাস্টে লিকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ছয় মাস পর সাজা অর্ধেক করে লির কারাদণ্ড বাতিল করেন সিউল হাইকোর্ট। এতে সে সময় মুক্তি পেয়েছিলেন স্যামসাং উত্তরাধিকারী। পরে আবার সংশ্লিষ্ট আরও কিছু অপকর্মের অভিযোগ আনা হলে মামলা ফের সচল হয়।