সড়ক উন্নয়ন কাজে নিম্নমানের সামগ্রীসহ নানা অনিয়ম

প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৪:২৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘিয়া মুন্সিবাড়ি সড়ক উন্নয়ন কাজে নিম্ম মানের সামগ্রীসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার, মাত্রাতিরিক্ত বালু দেয়াসহ দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। রাস্তায় মান সম্মত কাজের জন্য মেয়রের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় বাসিন্ধারা।

এলাকাবাসী বলছেন, অধিক লাভের আশায় নির্মান খরচ কমিয়ে আনতে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করছেন ঠিকাদার। এতে জড়িত রয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন প্রকৌশলী ও তাদেও সহযোগীরা। তাছাড়া ইটের খোয়ার পরিমাণ কমিয়ে মাত্রাতিরিক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী কয়েকবার অভিযোগ করলেও কর্নপাত করছে না তারা।

স্থানীয় বাসীন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাজীপুর সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় তার দুর্নাম হচ্ছে। এ ব্যপারে তারা মেয়রের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সড়কটির সংস্কার বা উন্নয়ন কাজের অনুমোদন পেয়েছে দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঘিয়া থেকে বাঘিয়া মুন্সিবাড়ি নদীর পাড় পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার। সড়কটিতে উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।

সড়কের বিভিন্ন অংশে ইট, বালু ও ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে মুন্সিবাড়ি এলাকায় আমির হোসেনের বাড়ির সামনে নি¤œ মানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে।

এতে সড়কের স্থায়ীত্ব নিয়ে আশংকা করছে এলাকাবাসী। কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে কয়েকবার এলাকাবাসী এসব ইট ও খোয়া ব্যবহার কাজে বাধা দিয়েছিল। এসময় এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে নিম্নমানের এসব ইট ও খোয়া ব্যবহার বন্ধ রাখে ঠিকাদাদের লোকজন। এরপর আবার তারা কাজ শুরু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মালেক সরকার জানান, আগে ঠিকাদার নিম্নমানের ইট ও খোয়া সড়কে এনেছিল। তখন সেগুলো আমারা এলাকাবাসী সড়কের কাজে ব্যবহার করতে দেইনি। পরে বাধ্য হয়ে ঠিকাদার সেগুলো সরিয়ে নেয়। বর্তমানে কিছু নিম্নমানের ইট সড়কে ফেলা হয়েছে সেগুলো যাতে আর সড়কে ব্যবহার করা না হয় সেজন্য তিনি কাউন্সিলরের কাছে দাবি জানায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়কটির সংস্কার কাজের অনুমোদন পেয়েছে দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। কাজের তত্ববধায়ন করছেন সিটি করপোরেশনের ৭নং জোনের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী তারেক হাসান। মুঠোফোনে জানতে চাইলে তারেক হাসান বলেন, ওই সড়কে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। সব সময় সড়কটির কাজের পরিদর্শন করা হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ঠিকাদারের সুপারভাইজার রাকিবুল ইসলামের সাথে ওই প্রকৌশলীর কথা বলানো হয়। তখন রাকিবুল হাসানও নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে প্রকৌশলীকে জানান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল মাতিন খান সড়কে কোন ধরনের নিম্নমানের ইট দেয়া হচ্ছে না দাবি করেন।

তবে রাস্তা কাটার সময় কিছু ইট বের হয়েছিল সেগুলো সম্ভবত সড়কে পড়েছিল। একতা বিক্সের কিছু ইট নিম্নমানের ছিল বলে সেগুলো ফেরত দেয়া হয়েছে। সড়কটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৭৫ মিটার এবং প্রস্থ্য ১২ ফুট।

স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ এসব অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, সড়কটিতে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। এগুলো মিথ্যা। অথচ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও তিনি তা অস্বীকার করছেন।

এব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৭নং জোনের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন এসব অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, এখানে ২ নম্বর করে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

সব সময় সড়কের দেখাশুনা করছি এর মধ্যে যদি কেউ অনিয়ম করে আমি কি করতে পারি? এর আগে ২ নম্বর কিছু ইট ছিল সেগুলো সরিয়ে দিয়েছি আমরা।