হঠাৎ নতুন ‘খোলসে’ শিবির!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আটক ২০

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: 8:54 PM, December 2, 2019 | আপডেট: 8:54:PM, December 2, 2019

চাপের মুখে থেকেও এবার নতুন ‘খোলসে’ মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির! যেখানে যে অনুভূতি কাজে লাগানো যায় সেটাতে ভর করে গোপন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। প্রাথমিকভাবে সদস্য সংগ্রহ অভিযানেও নামা হয়েছে।

রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০ শিবির নেতাকর্মী আটকের পর পুলিশ এমন তথ্যই পেয়েছে। গতকালের ওই অভিযানে পুলিশ জিহাদি বইও উদ্ধার করে। এ সময় বাংলাদেশ কওমি ছাত্র পরিষদ নামের একটি সংগঠনের সদস্য ফরমও উদ্ধার করা হয়। মূলত কওমি ছাত্র পরিষদের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদর্শিক মিল নেই। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমিপন্থীদের একটি বড় অংশ রয়েছে। আর এ অবস্থাকে কাজে লাগিয়েই ইসলামী ছাত্রশিবির এখানে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নামে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, রবিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে পৌর এলাকার ভাদুঘরের আলহেরা হাফিজিয়া মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে ২০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। বিজয় দিবসে নাশকতার পরিকল্পনা করতে সেখানে তাঁরা বৈঠক করছিলেন বলে পুলিশ জানায়। তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই ও সিল উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন জেলার আখাউড়া উপজেলার দেবগ্রামের মৃত আবদুল মোমেনের ছেলে সালমান পারভেজ (২১), ধর্মনগর গ্রামের মৃত ওসমান গনির ছেলে শেখ ছাদিক (২১), জিকুটিয়া গ্রামের মোতাহার হোসেনের ছেলে হায়দার রাফি (১৮), নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগরের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে নাইমুল ইসলাম (২৮), বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে হাসান মাহমুদ (২১), মোহাম্মদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০), শেখ ফরিদের ছেলে কাওসার হোসাইন (২০), আমানপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে জাকারিয়া (১৮), আদমপুর গ্রামের আবদুল ওয়াদুদের ছেলে আবু সাঈদ (১৯), নবীনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে জহিরুল ইসলাম (২২), লাউরফতেপুর গ্রামের মৃত হুমায়ূন কবিরের ছেলে আল-আমীন (২২), মাঝিকাড়া গ্রামের মৃত আবদুল হেকিমের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২৪), জল্লি গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে সাহাব উদ্দিন (১৯), কসবা উপজেলার আকছিনা গ্রামের মৃত আবদুল গফুরের ছেলে নূরুল আমীন (২৭), জসিম উদ্দিনের ছেলে জামিল উদ্দিন (২৫), কৃষ্ণপুর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে আমীর হোসাইন (২০), ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দাতিয়ারা গ্রামের মৃত মোস্তাক খানের ছেলে মেনহাজ (১৮), সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে মাহমুদ (২০), বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিষ্ণুরামপুর গ্রামের মৃত তুজু মিয়ার ছেলে শাহজালাল (২৭) ও কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার ফাতেহাবাদ গ্রামের এ কে এম মহিবুল্লাহর ছেলে হাবিবুর রহমান (২০)।

তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন কলেজ ও মাদরাসার ছাত্র। তাঁদের সদর থানায় রাখা হয়েছে। রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের বিশেষ শাখার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ উদ্ধার করা বইয়ের তালিকা করার পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ভাদুঘর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আকতার হোসেন জানান, আলহেরা হাফিজিয়া মাদরাসা ও মসজিদে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এই মাদরাসায় কী হয় তা জানত না গ্রামবাসী। প্রায়ই মাদরাসাটিতে অপরিচিত ছেলেদের আনাগোনা দেখা যেত। ইসলামী ঐক্যজোট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি এনামুল হাসান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে কোনো ধরনের মিল নেই। রাজনৈতিকভাবেও না। যে মাদরাসা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে সেটির সঙ্গেও আমাদের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। আমার মনে হচ্ছে, কওমি মাদরাসার অবস্থানকে পুঁজি করে উদ্দেশ্য হাসিল কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য শিবির লেবাস পাল্টে কার্যক্রম চালাচ্ছে।’ অভিযানে থাকা পুলিশ পরিদর্শক সোহাগ রানা জানান, এই মাদরাসা থেকে পুরো জেলায় জামায়াতের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে বৈঠক করা অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের আটক হয়।

সদর থানার ওসি সেলিম উদ্দিন জানান, অন্য সংগঠনের নামে কার্যক্রম চালানোর বিষয়টি তাদের একটি নতুন কৌশল। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এ বিষয়টিসহ আরো তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। বিজয় দিবসে কোথায় কী ধরনের নাশকতার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সে বিষয়েও জানার চেষ্টা চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জানতে চাইলে জেলা জামায়াতের আমির সৈয়দ গোলাম সারোয়ার রবিবার বিকেলে বলেন, ‘নিয়মিত হওয়া কোরআন শরিফ পাঠের ক্লাস থেকে তাদের ধরে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানে বসে কেন নাশকতার পরিকল্পনা করতে হবে? আমরা তো নাশকতায় বিশ্বাসী নই। সারা দেশেই এখন অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এর শেষ আছে একটা।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের অনেক সহযোগী সংগঠন আছে। আমরা কওমি, আলিয়াসহ সব মাদরাসায় কার্যক্রম পরিচালনা করি।’ কওমি ছাত্র পরিষদ এমনই একটি সংগঠন বলে তিনি দাবি করেন।

সুত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ।