হত্যাকান্ডের একমাসেও উদ্ধার হয়নি মাথা ও পা, সনাক্ত হয়নি আসামি!

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৩০:অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০১৯

টাঙ্গাইল পৌর এলাকা বেড়াবুচনা বউবাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী মহর আলী হত্যাকান্ডের একমাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কাউকে সনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি। আজও উদ্ধার হয়নি মহর আলীর মাথা ও দুই পা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের অধিকন্ত তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পিবিআই।

জানা যায়, বেড়াবুচনা বউ বাজার এলাকার মৃত জামাল হোসেন বেপারীর ছেলে মহর আলী বউ বাজারে ফাহিম নামে একটি ফার্নিচারের দোকান করতো। গত ২ জুন বিকেলে মহর আলী তার ফার্নিচারের দোকান থেকে বের হয়ে যায়।

পরে তাকে শহরের একটি সিসি ক্যামেরায় দেখা যায় রিক্সা যোগে একটি বাসার সামনে নেমে যায়। তার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরের দিন ৩জুন সকালে একটি ব্রিফকেসে শিরউচ্ছেদকৃত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন দেহ পাওয়া যায়।

খন্ডিত দেহ এবং পরিহিত শার্ট গেঞ্জি দেখে তার আত্মীয় স্বজন মহর আলী লাশ সনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহত মহর আলী ভাই ইশারত হোসেন বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর টাঙ্গাইল মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর মো. আবু সাদেক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তদন্ত শুরু করেন।

নিহত মহর আলীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সুত্রধরে কয়েকজন গৃহবধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও একজন মহিলাকে হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মামলার কোন অগ্রগতি না হওয়ায় পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তভার গ্রহন করেন।

মামলার বাদী নিহতের বড় ভাই ইশারত জানান, আমার ভাই নিহত হওয়ার একমাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলো এখনো কোন আসামী ধরা পড়লো না। এতে করে আমরা খুবই মর্মাহত। তবে আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রকৃত খুনীরা ধরা পড়বে।

টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা জানান, মহর আলী আমাদের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য। মহর আলী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে আমরা মৎস্য ব্যবসায়ীসহ এলাবাসীরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যে প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইয়েদুর রহমান জানান, মহর আলী হত্যা মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। আমরা তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়বে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) এর ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা কয়েকদিন হলো এই মামলার তদন্তকাজ শুরু করেছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে ভাল একটা ফলাফল আমাদের হাতে আসবে।