হত্যা মামলার জামিন নিতে এসে কারাগারে সৌদি প্রবাসী

শাহজাদা এমরান শাহজাদা এমরান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৩০:অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

কুমিল্লার মুরাদনগরের চাঞ্চল্যকর মোস্তাক হত্যার মূল পরিকল্পনাকারি সৌদি প্রবাসী নুর মোহাম্মদের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালতের বিচারক।

মঙ্গলবার ওই হত্যা মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামী নুর মোহাম্মদ সৌদি আরব থেকে দেশে এসে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।

মামলার অভিযোগপত্রের সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে পাচপুকুরিয়া গ্রামের আমির হোসেন, কাজী সাইফুল, আবদুস সালাম, তাজুল ইসলাম, বজলু মিয়া, দেলোয়ার, শামীমসহ আরও কয়েকজন প্রকল্পের ম্যানেজার মোস্তাক মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

হত্যাকান্ডের জন্য অর্থ বিনিয়োগ এবং সার্বিক পরিকল্পনা শেষে ওই বছরের ডিসেম্বরে সৌদি আরব চলে পাড়ি দেয় নুর মোহাম্মদ। গত বছরের ২৪ জানুয়ারি প্রজেক্টের কাজের ব্যাপারে ম্যানেজার মোস্তাককে তার মোবাইল ফোনে কল করে সাইফুল।

ওইদিন দুপুরে ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে কুমিল্লার মুরাদনগরে সন্ধ্যায় পৌঁছে প্রজেক্টের লোকজনের সাথে দেখা করে। রাত সাড়ে সাতটার দিকে বাঁশকাইট এলাকায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী উল্লেখিতরা আল্লাহর দান মৎস্য প্রকল্প’র ম্যানেজার মোস্তাক মিয়াকে হত্যা করে লাশ বাঁশকাইট মরিচা খালে ফেলে দেয়।

মোস্তাকের স্ত্রী পারভীন আক্তার তাঁর স্বামীকে ফোনে না পেয়ে ২৫ জানুয়ারি মুরাদনগর এসে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তিনি মুরাদনগর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। ২৭ জানুয়ারি খালের পাড়ে মোস্তাকের লাশের সন্ধান মিলে। ওইদিনই মুরাদনগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী উল্লেখ করে তিনি মামলা করেন।

পুলিশ মামলাটির তদন্তে নেমে ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত মৎস্য প্রজেক্টের ৫ আসামীকে গ্রেফতার করে। আসামীরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারি ও অর্থের যোগানদাতা হিসেবে মৎস্য প্রজেক্টের মালিকানা অংশীদার সৌদি প্রবাসী নুর মোহাম্মদের নাম প্রকাশ করে।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর পুলিশ মোস্তাক হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অপরাধে নুর মোহাম্মদসহ ৮ আসামীর নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।