হাওর জলাশয়ে পাখির কলরব

হাবিবুল্লাহ হেলালি হাবিবুল্লাহ হেলালি

দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২০ | আপডেট: ৮:১৯:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২০
ছবি: টিবিটি

শীতকাল শুরু হওয়ার পরেই নানা রং বেরঙের পাখিদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে হাওর, জলাশয়, বিল, পুকুর। আমরা সেগুলোকে বলি অতিথি পাখি। প্রকৃতির অপার লীলায় প্রতি বছর সুুুুনামগঞ্জে দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন হাওর জলাশয়ে অতিথি হয়ে আসে ভিনদেশি অনেক পাখি।

দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের অদূরেই কনছখাই বিল। শীতের শুরুতে প্রতিদিন নানা রকমের পাখিরা এসে জড়ো হয়। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে কনছখাই বিলসহ কানলার হাওর এবং নিকটবর্তী জলাশয়গুলোতে পাখির আগমনে কলকল শব্দে ভরে ওঠে জলাশয়গুলো।

স্থানীয়রা জানান, হাওরের বড় জলাশয়ে প্রতি বছর কয়েকশ অতিথি পাখি আসতে দেখা যায়। এসব পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে ঝাঁক বেঁধে এক সঙ্গে আকাশে উড়ার দৃশ্য বিমোহিত করে হাওরপাড়ের মানুষদের।

তবে এবার অতিথি পাখির আগমন কম। কারণ হিসেবে দর্শনার্থীরা জানান, এ বিলে মানুষের আনাগোনা অনেক বেশি। প্রতিদিন জলাশয়গুলোতে মাছ আহরণ করায় পাখিরা ভয়ে আসতে চায় না।

সরেজমিনে কনছখাই বিল এবং কানলার হাওরে গিয়ে চোখে পড়ে এমনই দৃশ্য। প্রায় বেশিরভাগ জায়গায় ধান চাষের জন্য জমি তৈরি করছেন স্থানীয় কৃষকরা। পাখিগুলো বসার জন্য তেমন কোন সুযোগ না পাওয়ায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়ে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয় এক দর্শনার্থী জানান, শীতের সময়টা এখানে অনেক ভালো লাগে। অতিথি পাখিরা আসে, তাদের কিচিরমিচির শব্দ একটা সুরের পরিবেশ সৃষ্টি করে। এবারও নানা প্রজাতির পাখিরা এসেছে হাওরে।

হাওর, বিলের পানি ক্রমশ শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় মাছ শিকারীদের উৎপাতের কারণে পাখিরা ভয়ে থাকে। জেলেদের উৎপীড়ন কমাতে পারলে অতিথি পাখিরা নির্ভয়ে জলাশয়গুলো আসতে পারবে। যেখানে তারা খাবারের সুবিধা বেশি পাবে, নিরাপদ আশ্রয়স্থল পাবে সেখানেই যাবে এটাই নিয়ম। আমাদের উচিত পাখিগুলোকে কোন প্রকার অত্যাচার না করে নিরাপদ পরিবেশ তৈরী করে দেওয়া।