হাকালুকি হাওরে ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৯ | আপডেট: ১২:১১:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহিত

এ বছর ঝাঁকেঝাঁকে সাগরের রূপালি ইলিশ ধরা পড়ছে দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকিতে। ঝাঁকেঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় হাসি ফুটছে জেলেদের মুখে। এ বছর ধরা পড়া ইলিশের আকারও বেশ বড়। তবে স্বাদে একটু ভিন্নতা থাকায় এই ইলিশের দাম কিছুটা কম।

চলতি বন্যায় এখন পানিতে টইটম্বুর হাকালুকি। হাওরপাড়ের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া, জুড়ি ও বড়লেখা এবং সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মৎস্যজীবীরা হাকালুকিতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভরা হাওরে দিনে-রাতে জাল ফেলে মাছ ধরেন তারা।

সম্প্রতি কুলাউড়া উপজেলার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি রুই, বোয়াল, আইড়, কালি বাউশ, টেংরা-পুঁটির পাশাপাশি হাকালুকিতে ধরা পড়া ইলিশও উঠেছে বাজারে। এসব ইলিশের দামও কিছুটা কম। মাঝারি আকারের প্রতিটি ইলিশ ৪-৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা বাজারে ইলিশের ক্রেতা জয়নাল মিয়া জানান, তিনি এক হাজার টাকায় হাওরের দুইটি ইলিশ কিনেছেন। সাগরে ধরা পড়া এরকম দুইটি ইলিশ কিনতে দুই হাজার টাকা লাগবে।

তিনি জানান, হাকালুকিতে ধরা পড়া ইলিশের স্বাদে ভিন্নতা রয়েছে। কিছুদিন মিঠা পানিতে থেকে এই ইলিশের স্বাদ কিছুটা কমে যায়।

কুলাউড়া উপজেলার মৎস্যজীবী অধ্যুষিত সাদিপুর গ্রামের জেলে ময়না মিয়া জানান, দিনে দিনে হাকালুকিতে দেশি মাছের সংখ্যা কমছে। আগের মতো মাছ ধরা না পড়ায় অনেক জেলে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এ বছর হাওরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরা খুশি বলে তিনি জানান।

কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জানান, চলতি বন্যায় হাকালুকির সঙ্গে কুশিয়ারা-মেঘনা নদী হয়ে সাগরের সংযোগ ঘটেছে। প্রতি বর্ষায় এমনটি হয়। এর ফলে সাগরের ইলিশ উজান বেয়ে হাকালুকিতে চলে আসে। প্রতিবছরই হাকালুকিতে কমবেশি ইলিশ ধরা পড়ে। তবে এ বছর ধরা পড়ে ইলিশ আকারে বেশ বড় বলে তিনি জানান।