হাজিয়া সোফিয়া নিয়ে এরদোয়ান সরকারের নতুন ‘কৌশল’

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৫১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৯:৫১:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

হাজিয়া সোফিয়া জাদুঘর থাকবে নাকি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হবে এ নিয়ে তুর্কি আলাদতে মামলা চলমান। রায় না হলেও তুর্কি সরকার বিখ্যাত এই স্থাপত্যকে মসজিদে রূপান্তর করার নানা পরিকল্পনা ইতোমধ্যে হাতে নিয়ে নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এখানে নামাজের সময় ব্যতীত পর্যটকরা অন্য যেকোনো সময়ে প্রবেশ করতে পারবে। বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনার মুখে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানালো আঙ্কারা।

আরব নিউজের বরাতে জানা যায়, আদালত হাজিয়া সোফিয়ার বিষয়ে রায় আগামী ১৭ জুলাই দেবে। তবে গত শুক্রবার স্থাপত্যটির জাদুঘরের বৈধতা প্রত্যাহার করে আদালত। যার কারণে তুর্কি সরকার একে মসজিদে রূপান্তর করার আশাবাদী। এ নিয়ে নানা পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে তারা।

তুরস্কের বিখ্যাত স্থাপত্য নিদর্শন হায়া সোফিয়া তথাকথিত হাজিয়া সোফিয়াকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন দেশটির আদালত। এতে একসময় জাদুঘর, মসজিদ ও চার্চ হিসেবে ব্যবহৃত এ ঐতিহাসিক নিদর্শন ফের মুসলিমদের উপাসনালয় হিসেবেই ব্যবহৃত হবে। তবে নামাজের সময় এ মসজিদটির দেয়ালে থাকা খ্রিষ্টীয় চিহ্ন ঢেকে রাখা হবে বিশেষায়িত লেজার দ্বারা।

দেশটির ক্ষমতাসীন দলের এ কে পার্টির এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

যেহেতু এটি একসময় গির্জা ও জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, তাই এখানকার দেয়ালে এমন কিছু চিহ্ন রয়েছে যা নামাজের সময় ঢেকে তথা প্রচ্ছন্ন করে রাখা হবে।

এ কে পার্টির মুখপাত্র ওমর সেলিক জানান, খ্রিস্টানদের এ নিদর্শন পূর্বে যেকোনো সময় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এমনকি প্রবেশে কোনো মূল্যও নেয়া হতো না। তবে মসজিদের দেয়ালে থাকা খ্রিস্টান ধর্মের বিভিন্ন নিদর্শন কী লেজার ব্যবহার করে ঢাকা হবে তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি।

শুক্রবার দেশটির আদালত এক আদেশে বলেন, ১৯৩৪ সালে আইনবহির্ভূতভাবে এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। এটি উল্লেখ করেই এ ঐতিহাসিক স্থাপনাকে মসজিদ হিসেবে ঘোষণা দেন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ঘোষণা দেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে এ মসজিদে নামাজের আয়োজন করা হবে।

তবে তুরস্কের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে গ্রিস, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউনেস্কো। তারা এখন বৈশ্বিক নিদর্শনসমূহের অবস্থান পর্যালোচনা করছে।

৯ শতক এটি ইস্টার্ন রোমান রাজাদের চার্চ ছিল। পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের লোকেরা এটিকে মসজিদে পরিণত করে।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে স্থাপিত এ স্থাপনাটি অর্থোডক্স গির্জার জন্য সর্বপ্রথম তৈরি করা হয়। ১২০৪ সাল পর্যন্ত এ স্থাপনাটি গির্জা হিসেবে উপাসনা চলে।

১২০৪ সালের পর এটি ক্যাথলিক গির্জায় রূপান্তরিত হয়। যা প্রায় ৫৭ বছর ক্যাথলিক গির্জা হিসেবে ব্যবহারের পর ১৯৬১ সালে তা আবার অর্থোডক্স গির্জায় রূপান্তরিত হয়। আর তা ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৯২ বছর স্থায়ী হয়।

১৪৫৩ সালে (পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে) এ অঞ্চলটি উসমানিয় খলিফাদের দখলে আসে। উসমানিয় শাসকরা এ স্থাপনাটিকে মসজিদে পরিণত করে। যা ৫০০ বছর স্থায়ী হয়। সে সময় এ স্থাপনাটিকে ‘ইম্পেরিয়াল মসজিদ’ নামে ঘোষণা দিয়ে প্রধান মসজিদের মর্যাদা দেয়া হয়।

৪৮২ বছর মসজিদ থাকার পর ১৯৩৫ সালে আধুনিক তুরস্কের স্থপতি ও রাষ্ট্রপতি কামাল আতাতুর্ক এ স্থাপনাটিকে জাদুঘরে পরিণত করেন। এক পর্যায়ে স্থাপনাটি নিয়ে খ্রিস্টান ও মুসলমানদের দ্বন্দ্বের কারণে নতুন নিয়ম চালু হয়। আর তা হলো- এ স্থাপনার মূল হলরুমটি ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সেটি মুসলিম কিংবা খ্রিস্টান কেউই ব্যবহার করতে পারবে না।

তবে উভয় ধর্মের অনুসারীদের জন্য এ স্থাপনায়ই রয়েছে আলাদা আলাদা স্থান। আবার জাদুঘরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আলাদা আলাদা ইবাদতের স্থানও নির্মাণ করা হয়।

২০১৯ সালের মার্চে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, পর্যটকরা হায়া সোফিয়ার ব্লু মসজিদে আসা যাওয়া করতে পারবেন। এ জন্য তাদের জাদুঘরের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে মসজিদটি পরিদর্শন করতে হবে বলে জানান। পাশাপাশি এটি মসজিদে পরিণত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন।