হাতীবান্ধায় শিকলে বাঁধা বৃদ্ধের জীবন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২১ | আপডেট: ৮:২৩:অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২১

হাসান মাহমুদ, হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় প্রায় দুই বছর ধরে নিজ গৃহে শিকল বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন জহরুল ইসলাম(৭০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ।

গত দুই বছর ধরে শিকল বন্দি জীবন যাপন করলেও শিকল খুলতে সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। অভাব অনটনের কারণে বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন তাকে শিকল দিয়ে বেধে রেখেছেন। অর্থিক সহযোগীতা পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পাবে এমনা জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও পরিবার।

বৃদ্ধ জহরুল ইসলাম হাতীবান্ধা উপজেলার সিংঙ্গীমারী ৯ নং ওয়ার্ডের বাসীন্দা ।

জানাগেছে, জহরুল ইসলামের ২ ছেলে ৩ মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে ৭ সদস্যের পরিবার। দিন মজুরি করে সংসার চালাতেন তিনি। মেয়ে তিনটির বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেরাও বিয়ে করে আলাদা খায়।৪ বছর পুর্বে জহুরুলের স্ত্রী শরীফা বেগম প্যারালাইসে আক্রান্ত হয়ে ১ হাত ১ পা অচল হয়ে যায়। টাকার অভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা করতে ব্যর্থ হয় সে। অর্থ কষ্ট আর দুচিন্তায় জহুরুল ইসলাম মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। বাবা মায়ের এমন পরিস্থিতি দেখে ছোট ছেলে শহিদুল ইসলাম শত কষ্টের পরেও বাবা মায়ের দায়িত্ব নেয়। এ অবস্থায় কয়েকবার নিখোঁজ হয় বৃদ্ধ জহরুল। আর তাই প্রতি দিন বাড়ির উঠানে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় ওই বৃদ্ধকে।

মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির উঠানে গাছের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে বৃদ্ধ জহরুলকে। এ সময় বন্দি অবস্থায় ওই বৃদ্ধ বির বির করে কথা বলছেন। নিজের নামটি ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেন না তিনি।

এ সময় দিন মজুর ছোট ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, বাবা মা দুইজনেই অসুস্থ্য দিনমজুরি করে ঠিকমত দুইবেলা খাবার জুটে না। অসুস্থ্য বাবা ও মাকে খাওয়া পড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে বিপাকে পড়ছি। বাবা মায়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ পাবে কোথায়? অপরদিকে মায়ের চিকিৎসা করতে না পারায় বাবা পাগল হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বাবা কয়েকবার নিখোঁজ হয়। তাই দিনের বেলা বাবাকে গাছের সাথে শিকল বেঁধে রাখা হয়।

বৃদ্ধ জহরুল ইসলামের স্ত্রী শরীফা বেগম বলেন, অভাবের সংসার একটা ছেলের কাজের উপর ৫ জনের খাওয়া। আমার প্যারালাইস হওয়া পর স্বামীর মাথার সমস্যা। টাকা অভাবে দুইজনেই চিকিৎসা করতে পারি নাই। অসুস্থ্য অবস্থায় ঘরে দুইজনেই পড়ে আছি।

প্রতিবেশী রাজ্জাক জানান, বৃদ্ধ জহরুল ইসলাম মানসিক রোগী কোথাও গেলে আর বাড়ি ফিরতে পারে না। তাই তার পায়ে শিকল দিয়ে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিংঙ্গীমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু জানান, তিনি দীর্ঘ দিন থেকে মানসিক ভারসাম্য রোগী। তবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিষয় আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ খবর নিয়ে ওই পরিবারকে সাহায্য করা হবে।