তাহিরপুরে নামে আছে হাত ধোঁয়ার বেসিন, কাজের বেলায় নেই

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১ | আপডেট: ৯:০৮:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২১

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ও জনসচেতনতার বাড়ানোর লক্ষ্যে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে হাত ধোঁয়ার বেসিন বসায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। লক্ষাধিক টাকা খরচ করে সে সব বেসিন থাকলেও উপকারে আসছে না সাধারণ মানুষের। পরে আছে বেহাল অবস্থায়। যেন দেখার কেউ নেই।

সম্প্রতি ব্যাপক হারে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারনেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা কোন কার্যকর প্রদক্ষপও গ্রহণ না করায় সব মহলে চরম ক্ষোব বিরাজ করছে। সরকারি টাকা খরচ করার জন্য যেন লোক দেখানো এই আয়োজন বলে মনে করেছেন সুধিজন।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তাহিরপুর বাজার যেখানে জনসমাগম বেশি হয়। বাজারে প্রবেশের মুখেই শহীদ মিনার সংলগ্ন ও পুরনো মুক্তিযুদ্ধা কাশেম স্মৃতি ভবনের নিত তলায় রয়েছে একটি গাড়ির গ্যারেজ। এর সামনে তৈরি করা হয় করোনা সংক্ররমণে হাত থেকে বাচঁতে ও প্রতিরোধে আর জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্যেই একটি হাত ধোঁয়ায় বেসিন। বেসিনে সাবান রাখার দুটি পাত্র থাকলেও নেই সাবান,নেই হাত ধোয়ার পানি। বেসিনে ধুলোবালি আর ময়লা জমে আছে। একেই অবস্থায় রয়েছে উপজেলা পরিষদের বেসিন ও সাবরেজিস্টার অফিস সংলগ্ন স্থানে বসানো বেসিনে সাবান রাখার দুটি পাত্র থাকলেও দুটিই ভাঙ্গা সাবান ও পানি নেই। সঠিক ভাবে দায়িত্বশীলদের তদারকি না থাকায় করোনা প্রতিরোধে এসব কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের করোনা কালিন সময়ে হাত ধোঁয়ার ব্যাপারটা খুব একটা উৎসাহও দেখা যায় নি এই বেসিন গুলোতে। বেসিন থাকলেও ছিলনা প্রয়োজনীয় উপকরণ বলে জানান,স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে গত ১৪ই এপ্রিল থেকে সারা দেশের ন্যায় লকডাউন থাকায় এই উপজেলায় যানবাহন আগমন সীমিত ও মানুষের সমাগম নেই বললেই চলে। এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়,উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য উপজেলায় তিনটি বেসিন নির্মাণ করা হয়েছিল। এর জন্য নির্মাণে ব্যয় প্রতিটি ভ্যাট বাদ দিয়ে প্রতিটি ২৫ হাজার টাকা করে তিনটি ৭৫হাজার টাকা।

উপজেলার সচেতন মহলে বলেন,সরকারী টাকা যাচ্ছে তাই ভাবে বিভিন্ন খাতে অপব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এই টাকা কতটুকু কাজে আসবে জনগণের তার চিন্তা করার ফুরত নেই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের। তারা যেন বেসিনটি তৈরি করেই দায়িত্ব শেষ। এর রক্ষনাবেক্ষন আর প্রয়োজনীয় উপকরন বিষয়ে উদাসিন। যে হারে করোনা বাড়ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে ভাবে এখনও পদক্ষেপ এখনও নেয়া হয় নি।

উপজেলা দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রাম থেকে আসা সাজিদ মিয়া বলেন,করোনা যে হারে বাড়ছে সারা দেশে টিভিতে খবর শুনি ভয় লাগে। উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হাত ধোঁয়ার বেসিন তৈরি করা হলেও কোন কাজে আসে নি। কাউকে ত দেখিনি হাত ধোঁতে। আর হাত ধোবে কি দিয়ে নেই পানি আর সাবান। তাহলে এগুলো কেন তৈরি করা হল যদি হাত ধোঁয়াই যায় না।

বাদাঘাট ইউনিয়ন তাহিরপুর বাজারে আসা আমিন মিয়া জানান,বাজারে ত অনেকেই আসে। বাজারে প্রবেশের মুখেই শহীদ মিনার ও পুরনো মুক্তিযুদ্ধা কাশেম স্মৃতি ভবনের নিত তলায় যে বেসিনটি আছে তাতে কাউকেই হাত ধোঁতে দেখা যায় না। আর হাত ধোবে কি ভাবে সাবান পানি কিছু নেই।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতরের প্রকৌশলী আল আমিন জানান,আমরা ভাল করেই করোনা কালিন সময়ে দূত্র সময়ের মধ্যেই বেসিন নির্মাণ করে দিয়েছি। তবে সাধারণ মানুষের অসচেতনার জন্য বেসিনগুলো সঠিক ভাবে কাজে আসছে না। আর আমাদের পক্ষ থেকে সাবান দেয়া হলেও সেই সাবান সকালে দেয়ার পরেই আর পাওয়া যায় না। সাবার রাখার পাত্র ভেঙে ফেলে। আমি নিজে বাজার কমিটি ও যেখানে বেসিন স্থাপন করা হয়েছে তার আশ পাশের লোকজনকে বলেছি একটু খেয়াল রাখতে। এর পরও কাজ হচ্ছে না।

তাহিরপুর উপজেলার পরিষদ চেয়ারম্যান করুণ সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন,করোনা কালিন সময়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে পাশাপাশি নিজ নিজ দায়িত্বে হাত ধোঁয়া ও মুখে মাক্স পরতে হবে। উপজেলায় নির্মিত হাত ধোঁয়ায় বেসিন গুলোর সাবান ও পানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।