হাবিপ্রবিতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তিই নানা সঙ্কটের কারণ!

প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২১ | আপডেট: ৮:৫৮:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২১

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) প্রতি বছর একাডেমিক সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এজন্য একাডেমিক সক্ষমতা না বাড়ানো পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষায় আসন সংখ্যা কমানো উচিৎ বলে মনে করেন এসব শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সাংবাদিক সমিতি পরিচালিত ওই জরিপে অংশগ্রহণ করেন ২,১৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় আসন সংখ্যা কমানোর ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন ১,৯৫২ জন শিক্ষার্থী, যা মোট ভোটের প্রায় নব্বই শতাংশ। অন্যদিকে আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন ১৮৬ জন্য শিক্ষার্থী এবং বাড়ানোর ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন মাত্র ৫০ জন শিক্ষার্থী।

আসন সংখ্যা কমানোর পক্ষে মতামত দেওয়া শিক্ষার্থীদের দাবি,বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাডেমিক সক্ষমতা না বাড়িয়েই অহেতুক আসন সংখ্যা বাড়িয়েছে। যেখানে পরিবহন সংকট,ক্লাস রুম সংকট,ল্যাব সংকটসহ আবাসন সংকটে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীরা, সেখানে সংকট নিরসন না করেই প্রতি বছর এতো শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর কোন মানে হয় না।বেশকিছু শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, কৃষি অনুষদে অবশ্যই আসন সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া উচিৎ। কেননা হাবিপ্রবি কৃষি কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তিত হলেও কৃষি অনুষদের আসন সংখ্যা না কমিয়ে আগের মতো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, হাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে কৃষি অনুষদেই ভর্তি করানো হয় তিনশত পঁচাত্তর জন শিক্ষার্থী।

আসন সংখ্যা কমানোর ব্যাপারে হাবিপ্রবির রেজিস্টার প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ ফজলুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,’আসন সংখ্যা কিছুটা কমানো হোক এটা আমিও চাই। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আসন সংখ্যা বাড়ানো বা কমানো উচিৎ’।

তবে কিছুটা বিপরীত মতামত দিয়েছেন ডিভিএম অনুষদের প্যাথলজি এ্যান্ড প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হারুন-উর-রশিদ। তিনি বলেন, ‘আসলে আসন সংখ্য কমানো ঠিক হবে না। কেননা এতে করে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না’।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আসলে আসন সংখ্যা কমানোর ব্যাপারটি আমার একক কোন সিদ্ধান্তের ব্যাপার নয়। বিষয়টি ভর্তি পরীক্ষা কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা করা যেতে পারে’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তথ্য বলছে, হাবিপ্রবিতে বর্তমানে এগারো হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৩০৯ জন শিক্ষক। এর মাঝে ৫০ এর অধিক শিক্ষাক উন্নত ডিগ্রী নিতে দেশের বাহিরে অবস্থান করছে। বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ সহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যন্ত ক্লাস রুম ও ল্যাব। সেই সাথে পরিবহন সংকট চোখে পরার মতো। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত রিসার্চ ফিল্ড ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় হাতাশ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া হল সংকট থাকায় বিদেশী শিক্ষার্থী কমার পাশাপাশি স্থানীয় মেসমালিক সমিতির একক আধিপত্যে ক্ষুব্ধ হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য যে, সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নিবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমনটাই প্রত্যাশা হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের।