হাবিপ্রবির গ্রন্থাগার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার অটোমেশনের কাজে ধীরগতি

প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৯ | আপডেট: ৪:২৬:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম ২০১৮ সালে ঘোষণা করেন হাবিপ্রবির গ্রন্থাগার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখা আধুনিকায়ন করা হবে।

উপাচার্যের ঘোষণার প্রায় এক বছরেরও অধিক সময় অতিবাহিত হলেও বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্থাগারিক মোঃ আলাউদ্দিন খানের সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ হাবিপ্রবি থেকে একটি পরিদর্শক দল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে যায় গতমাসে। পরিদর্শক দল ঢাবি, শেকৃবি, কুয়েট ও ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে এসে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন সাপেক্ষে আমাদের কাছে কুয়েটের সিস্টেমটিকে সবচেয়ে যুগোপযোগী মনে হয়েছে।

কুয়েটের আদলে আমাদের গ্রন্থাগারটি বাস্তবায়ন করতে কমপক্ষে প্রায় এক কোটি টাকার মতো প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানতে পারবে হাবিপ্রবির গ্রন্থাগারে কি কি বই রয়েছে কিংবা কার কাছে সেই বই রয়েছে অথবা কার কত জরিমানা রয়েছে ইত্যাদি যাবতীয় সকল তথ্য। এমনকি পরবর্তিতে আমরা চেষ্টা করবো বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয় গুলির সাথে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের লিংকআপ করতে।

এছাড়া গ্রন্থাগারটি আধুনিকায়ন করা হলে সেখানে আরএফআইডি সিস্টেম সংযুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আর আরএফআইডি সিস্টেমটি বাস্তবায়ন হলে কেউ গ্রন্থাগার থেকে কোনো বই অবৈধ ভাবে বাহিরে নিয়ে যেতে পারবেনা বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাসের কাছে তাঁর শাখার আধুনিকায়নের কাজের অগ্রগতি সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ গত ৪ঠা আগষ্ট আমরা একদল প্রোগ্রামারের সাথে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখা আধুনিকায়ন জন্যে বৈঠকে বসি।

কিন্তু তাঁদের দেয়া চাহিদার সাথে আমরা একমত হতে পারি নি। তাই আপাতত আমরা নতুন করে প্রোগ্রামার খুঁজতেছি যারা কিনা কম খরচে এককালীন অর্থের বিনিময়ে প্রোগ্রামটি আমাদেরকে দিয়ে দিবে। আমরা তাদের সাথে চুক্তি করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবো অথবা তা যদি একান্ত সম্ভব না হয় তবে আমাদের

বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়ার প্রোগ্রামার এবং আইটি সেল যৌথভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখা কিভাবে আধুনিকায়ন করা যায় তাদের সাথে আলোচনা করে সেভাবে যথাযত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। তবে আশা করছি ঈদের পরে এই কাজের গতি বাড়বে।

আবার গ্রন্থাগার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখা আধুনিকায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিপ্রবির প্লানিং, ডেভলোপমেন্ট এন্ড ওয়ার্কস শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি অতিদ্রুত সময়ের মাঝে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে। প্রকল্প দুইটি বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে আবার অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে।

উল্লেখ্য, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ আধুনিকায়ন হওয়ার পর হাবিপ্রবির এই গুরুত্বপূর্ণ দুইটি শাখা আধুনিকায়ন হতে চলেছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে ( ২০২০ ) হাবিপ্রবিতে যারা ভর্তি হবে তারা এই সুযোগ সুবিধার আওতায় আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।