হিজাবী এই বডিবিল্ডারকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় আলোচনার ঝড়

প্রকাশিত: ১১:১১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ | আপডেট: ১১:১১:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

২৩ বছরের মাজিজিয়া বানু মিস্টার কেরালা কম্পিটিশনে মহিলাদের বিভাগে মঞ্চে এসে যখন দাঁড়ালেন সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইল। কারণ এর আগে কখনও কোনও মহিলা বডিবিল্ডিং-এর প্রতিযোগিতায় হিজাব পরে অংশগ্রহণ করেনি। সকলকে অবাক করে ওই অনুষ্ঠানের বিজেতা হয়ে তিনি প্রমাণ করলেন হিজাব কোনও মেয়ের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। ভারতীয় মিডিয়ায় তাকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বেশ আলোচনা হচ্ছে।

বানু প্রমাণ করলেন হিজাব কোনও মহিলার স্বপ্ন পূরণ আটকাতে পারে না। একজন মহিলা যদি নিজের শরীর স্বাধীনভাবে খোলা রাখতে পারে, তবে সে স্বাধীনভাবে নিজের শরীর ঢেকে রাখতেও পারে। তিনি বিশ্বের একমাত্র মুসলিম মহিলা নন যিনি আর্ম রেসলিং এবং পাওয়ার লিফটিং করেছেন; আরও অনেক মহিলাই আছেন যারা হিজাব পরে এই কাজ করেন।

“আমাদের নাম শোনার পরেই সবাই বুঝতে পারে আমরা মুসলিম”, তিনি জানান। আরও বলেন, “হিজাব পরে আমি গর্ব বোধ করি। এটা আমার পরিচয়ের অংশ। এটা আমাকে কোনও সীমানা বেঁধে দেয়নি বরং আমাকে আত্মবিশ্বাস ও শক্তি জুগিয়েছে।“

মাত্র দুই বছরেই বানু একজন সাধারণ ডেন্টাল ছাত্রী থেকে স্থানীয় তারকা হয়ে উঠেছেন, তাও শুধুমাত্র নিজের গ্রামেই নয়, সমগ্র কেরালায়। কেরালা রাজ্য পাওয়ারলিফটিং অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা তিনি তিনবার সবচেয়ে শক্তিশালী মহিলা নির্বাচিত হয়েছেন।

এই দুই বছরে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনি পাওয়ারলিফটিং এবং আর্মরেসলিং-এ জাতীয় স্তরে মেডেল লাভ করেছেন। অনুশীলন হোক কিংবা প্রতিযোগিতা সব সময় হিজাব পরে থাকতে দেখা যায় তাকে।

“প্রথম প্রথম পুরুষরা আমি হিজাব পরায় আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো। কিন্তু তারপরেই ওরা বুঝতে পারে আমি ওদের মতোই নিজের ওয়ার্কআউট নিয়ে সিরিয়াস। তারপরেই তাদের চোখগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়”, আইএএনএস’কে জানান বানু।

খেলাধুলায় তার প্রবল আগ্রহ থাকা সত্বেও তার গ্রামে কোনওরকম সুযোগসুবিধা ছিল না। তাই প্রতিদিন নিজের ডেন্টাল ক্লাস শেষ করে তিনি ৬০ কিলোমিটার পথ ট্রেনে চেপে কোঝিকোড়ের একটা জিমে যেতেন।

“আমি রাত ৯টায় বাড়ি ফিরতাম। প্রথম প্রথম কাজটা কঠিন ছিল। তারপর আসতে আসতে আমি আত্মবিশ্বাস পেলাম এবং একা যাতায়াতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লাম। তারপর আমার রুটিনের এটা একটা অংশ হয়ে গেল”, শেষ বর্ষের ডেন্টাল ছাত্রী জানলেন।

বানু আরও জানান, বাবা মায়ের সহযোগিতা তাকে এই স্থান অর্জন করতে সাহায্য করেছে।

“আমি একটা গ্রামে বড় হয়েছি। কিন্তু আমার মা বাবা আমার পাশে থেকেছেন এবং আমার বডিবিল্ডিং-এর নেশাটা আমাকে জিইয়ে রাখতে সাহায্য করেছে।”

আগামী মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ওয়ার্ল্ড আর্ম রেসলিং চ্যাম্পিয়ানশিপ ২০১৮, যার জন্য জোর কদমে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন ভানু।

“আমি জানতাম না আমি এই পর্যন্ত পৌঁছতে পারবো কিনা। কারণ অখানে যেতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। আমি বেশ কিছু মানুষের সাহায্য চাই এবং শেষপর্যন্ত তাঁদের সহযোগিতায় আমি ফান্ড জোগাড় করতে সক্ষম হই। আর সেই সময়েই বুঝতে পারি, আমি মুসলিম হওয়ায় অনেকেই আমাকে সাহায্য করেনি”, জানান তিনি।

-এনডিটিভি।