হিজড়াকে জামিন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে চট্টগ্রাম মহিলা হাজত ইনচার্জের অভিনব প্রতারণা

সোহেল মাহমুদ সোহেল মাহমুদ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৪৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

মাদক মামলার সুন্দরী নামের এক তৃতীয়লিঙ্গের আসামিকে জামিনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম আদালতের মহিলা হাজতখানর ইনচার্জ এ এসআই মনি বেগমের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৪ নভেম্বর) বিকালে ওই আসামি বাদী হয়ে চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ওসমান গণির আদালতে মনি বেগমের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আনীত অভিযোগের প্রয়োজনীয় তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য হাজাতের দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানকে লিখিতভাবে নির্দেশ দেন।

সুন্দরী চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া পৌরসভার গোবিন্দখালী গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, তার পিতার নাম সুলতান আহমদ। অভিযোগকারীর পক্ষের আইনজীবী রিমন দাস দি বাংলাদেশ টুডেকে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বাদী সুন্দরী চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারী মাদক মামলায় গ্রেফতার হন। তার পরিবার জামিন করিয়ে দিতে আমার সাথে কথা বলে। তাদেরকে জানাই, এই মামলায় জামিন পেতে অন্তত ৫ মাস সময় লাগবে। পরে যোগাযোগ করবে বলে তারা চলে যায়। চার মাস ধরে আমার সাথে কোন যোগাযোগ করেনি।

চার মাস পরে এসে বলছে মহিলা হাজত ইনচার্জ (তিন) মাসের মধ্যে জামিন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে কিন্তু জামিন করাতে পারেনি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মনি বেগম সুন্দরীর কাছে জানতে চায় জামিনের বিষয়ে কোন আইনজীবীর কাছে গিয়েছিল কিনা। উত্তরে সুন্দরী জানান, রিমন দাস নামের একজন আইনজীবীর সঙ্গে তার ভাই কথা বলেছে। ওই আইনজীবী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে জামিন করাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

ধার্য তারিখে সুন্দরীকে কোর্টে আনা হলে মনি বেগম বলেন, নিয়ােজিত আইনজীবি জীবনেও জামিন করাতে পারবে না, সারাজীবন জেলে পঁচতে হবে, নিয়ােজিত আইনজীবি কোন আইনজীবিই না। মামলাটি তাকে (মনি বেগম) দিলে ভালাে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন করিয়ে দিবেন। তার কথায় আশাবাদী হয়ে তৎক্ষণাৎ তার ফোন থেকে সুন্দরী পরিবারের সঙ্গে যােগাযােগ করে।

এ বিষয়গুলো জানিয়ে মনি বেগমের সঙ্গে জামিন করানাের বিষয়ে যােগাযােগ করতে বলেন সুন্দরী। পরে তিন মাসের মধ্যে জামিন করাবে এমন ভিত্তিতে ৮০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। সুন্দরীর ভাই মোঃ আনোয়ারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে অগ্রিম বিশ হাজার টাকা নেন মনি বেগম। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও জামিন না হওয়ায়, মনি বেগমের সঙ্গে বার বার যােগাযােগ করে কোন সাড়া পাচ্ছিল না সুন্দরীর পরিবার। এতে বেশ হতাশ হয়ে পড়েন সুন্দরীর পরিবার।

পরবর্তী ধাৰ্য্য তারিখে সুন্দরীকে কোর্টে আনা হলে মনি বেগমকে জামিনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন সুন্দরী। সে সময় মনি বেগম রেগে তার সঙ্গে দুঃব্যবহার করেন। সুন্দরী এর প্রতিবাদ জানালে হাজতে পানি পর্যন্ত খেতে না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন মনি বেগম। পরবর্তীতে আইনজীবী রিমন দাসের মাধ্যমে হাইকোর্ট থেকে জামিন করানো হয় তাকে। সুন্দরী জামিনের পর বার বার কোর্টে এসে যােগাযােগ করে টাকা ফেরত চাইলে আজ দিবেন কাল দিবেন বলে নানান বাহানা করেন মনি বেগম।

গত (৩০ সেপ্টেম্বর) টাকা দিতে অস্বীকার করে বলেন, “যদি আর একবার টাকা চাওয়া হয় তাহলে নতুন কোন মামলা দিয়ে আবারাে হাজতে পাঠানো হবে। সুন্দরী জানান, চট্টগ্রাম আদালতের মহিলা হাজতের ইনচার্জ এ এসআই মনি বেগম বিভিন্ন মহিলা হাজতিকে জামিন করানাের কথা বলে ফুসলিয়ে কৌশলে তাদের পরিবারের থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেন। পরবর্তীতে জামিন না করিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে উক্ত টাকা আত্মসাত করেন। এর প্রতিবাদ করলে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দূঃব্যবহার করা হয়, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতিও দেখানো হয়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম আদালতের মহিলা হাজতের ইনচার্জ এ এসআই মনি বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি দি বাংলাদেশ টুডেকে বলেন, আমি জানতে পেরেছি সুন্দরী নামের এক (তৃতীয় লিঙ্গ) আসামি আমার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছে। কোন কুচক্রী মহল আমাকে হয়রানি করার জন্য ইন্ধন দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছে।

জামিনের প্রলোভন দেখিয়ে হাজতিদের পরিবার থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আপনি অন্য হাজতিদের সাথে কথা বললে সত্যটা জানতে পারবেন। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।