হৃদয় থেকে আমি একজন ফিলিস্তিনি : ম্যারাডোনা

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৪:৫৭:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

ম্যারাডোনার আকস্মিক মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই কাঁদছে ফুটবল বিশ্ব। তার নিজের দেশ আর্জেন্টিনা এবং ইতালিয়ান শহর নেপলস। এদের বাইরে আরও একটি জাতি ম্যারাডোনার মৃত্যুশোকে মুহ্যমান। তারা হচ্ছে, ফিলিস্তিনি। সারাজীবন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে গেছেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। তুমুল বিরোধী ছিলেন ইসরায়েলি দখলদারিত্বের।

ফিলিস্তিনিদের কাছে ম্যারাডোনা শুধুমাত্র একজন ফুটবল তারকাই নন, ছিলেন যেন একজন মুক্তিদূত। সারাবিশ্বেই ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন। ইসরায়েলের সন্ত্রাস এবং নির্বিচার অত্যাচার-নির্যাতনের তুমুল প্রতিবাদ করতেন। সারাবিশ্বে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য জনমত গঠন করেছিলেন তিনি।

ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম প্যালেস্টাইন ক্রোনিক্যাল জানায়, লাতিন আমেরিকার অনেক তারকার মতো ইসরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সরাসরি নিজের সমর্থন জানিয়েছিলেন ম্যারাডোনা।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রতি ছিল তার আকুণ্ঠ সমর্থন। ২০১৮ সালে জুলাই মাসের এক ভিডিওতে দেখা যায়, আব্বাসকে জড়িয়ে ধরছেন তিনি।

নিজের বুকে আঙুল ঠেকিয়ে ম্যারাডোনা ঘোষণা দেন, ‘হৃদয় থেকে আমি একজন ফিলিস্তিনি।’

ফিলিস্তিনি নেতাকে জড়িয়ে ধরার সেই ভিডিও নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করেছিলেন ম্যারাডোনা।

দুবাইতে এক ফুটবল ম্যাচের আগে ফিলিস্তিনি দলকে সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি। গ্যালারিতে ফিলিস্তিনি ব্যানারও প্রদর্শন করেছিলেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি জাতীয় প্রতীক সাদা-কালো রুমাল কেফিয়াহ হাতেও দেখা গেছে তাকে।

২০১২ সালে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফুটবলার বলেছিলেন, ‘আমি ফিলিস্তিনিদের এক নম্বর সমর্থক। আমি তাদের প্রতি সমর্থন এবং সহানুভূতি জানাই।’

ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আমি এই জাতিকে সমর্থন করি, কারণ সংগ্রাম করে আমি বেড়ে উঠেছি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি।’

২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনায়ও ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো এ তারকা। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েল যা করছে, তা লজ্জাজনক।’

সেবছর ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং এ আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি তারকার মধ্যে একটি চুক্তির খবর প্রকাশ পেয়েছিল। তখন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, ২০১৫ সালের এএফসি এশিয়ান কাপের জন্য ফিলিস্তিনি ফুটবলের দলের কোচ হচ্ছেন তিনি। যদিও পরবর্তীতে সেরকম কিছু দেখা যায়নি।

ফুটবল কিংবদন্তির মৃত্যুতে ফিলিস্তিনিরা টুইটারে শোক প্রকাশ করছেন। আব্বাসের সঙ্গে তার সেই ভিডিও, ফিলিস্তিনি জাতীয় পতাকা ও কেফিয়াহ হাতে তার বেশ কিছু ছবি পোস্ট দিচ্ছেন তারা। ক্যাপশনে উঠে এসেছে ফিলিস্তিন নিয়ে তার বক্তব্যগুলো।

ফিলিস্তিনের বিশিষ্ট সাংবাদিক রামজি বারউদ বলেন, ‘ফিলিস্তিনে ম্যারাডোনাকে অপছন্দ করা সম্ভব নয়। তাকে ভালোবাসাই একমাত্র উপায় আছে আপনার হাতে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো দরিদ্র অবস্থা থেকেই ম্যারাডোনা উঠে এসেছিলেন। আমাদের জন্য এটি শুধু ফুটবল বা খেলার বিষয় না, এটি আমাদের জন্য আশার প্রতীকস্বরূপ। যে কোনো কিছু চাইলেই সম্ভব, এমন অনুভূতি আমাদের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।’

রামজি বলেন, ‘ম্যারাডোনার মতো আমরাও বলছি, আমরা আর্জেন্টাইন, আমরা লাতিন আমেরিকান।’