হেফাজতের প্রচার সম্পাদকেরও একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:০৫ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২১ | আপডেট: ৯:০৫:অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২১

হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জীর একাধিক বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে বিবাহ বহির্ভূত এসব সম্পর্কের কথা স্বীকারও করেছেন।

দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই হেফাজতে ইসলাম সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, ‘জাকারিয়ার সাথে বেশ কয়েকজন নারীর সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তার মোবাইল থেকে বিভিন্ন জনকে দেয়া কুরুচিপূর্ণ ম্যাসেজও পাওয়া গেছে। তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিনি।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘জাকারিয়া স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ও সরকারকে অস্থিতিশীল করতে তারা সারা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। তাদের পেছনে আর যারা আছেন তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

জানা যায়, বুধবার বিকেলে কক্সবাজারের চকোরিয়া থেকে জাকারিয়াকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া স্বীকার করেন হাটহাজারীসহ সবকটি ঘটনায় তার ইন্ধন ছিল।

হাটহাজারীর থানা ভবন ভাঙচুর, ভূমি অফিস ও ডাকবাংলোতে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায়ও তিনি জড়িত ছিলেন। গ্রেফতার হওয়া জাকারিয়ার মোবাইলে কয়েকজন নারীর সাথে করা অশ্লীল চ্যাটিং পেয়েছে পুলিশ। কয়েকজন নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কেও বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুলিশের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে হেফাজতে ইসলামের এ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জুডিশয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার ইকবালের আদালতের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। ভার্চুয়্যাল শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, ‘হাটহাজারীতে হওয়া দশটি মামলার মধ্যে সবকটিতে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাকে এসব মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

এসময় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ত্রিমুখী সংঘের্ষ ১৭ জন নিহত হয়।