হোটেলবন্দি যেন জেলখানা, বেরুলে মাথা ঘুরেছে মিরাজের

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১ | আপডেট: ৫:৩৪:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

নিউজিল্যান্ডে পৌঁছানোর পর থেকেই ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন তামিম-মুশফিকরা। তবে প্রথম দুইদিন পর নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ হলেও অনভ্যস্ত জীবন-যাপনে কিছুটা হাঁপিয়ে উঠেছেন ক্রিকেটাররা। মেহেদী মিরাজ তো বলেই দিলেন, তার কাছে এ যেন জেলখানার বন্দি জীবন!

শুক্রবার থেকে হোটেলের বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পেলেও ক্রিকেটাররা এখনই মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন না। আরও একদিন পর ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে অনুশীলনের সুযোগ মিলবে। আর এক সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন পার করার পর অনুমতি পাবে দলীয় অনুশীলনের। সবশেষে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন পূরণ করলে স্বাধীনভাবে সবকিছু করতে পারবেন ক্রিকেটাররা।

তার পরেও ঘরবন্দি জীবনে অনভ্যস্ত মেহেদী হাসান মিরাজ নিজের অস্বস্তির কথাগুলো স্বীকার করলেন অকপটে। রবিবার নিউজিল্যান্ড থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, তিনদিন যে ঘরের ভেতর বন্দি ছিলাম, আমার নিজের কাছে মনে হয়েছে যেন জেলখানায় আছি। কিন্তু যখন বাইরে বের হলাম, আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিলাম, তখন একটু ভালো মনে হয়েছে।’

গতকাল ও আজ আধা ঘণ্টা করে বাইরে বেরুতে পেরেছে টিম টাইগার্স। কিন্তু করোনা সতর্কতায় সবাইকেই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে হাঁটতে হয়েছে, কথা বলতে হয়েছে। পক্ষান্তরে আগের তিন দিন এক মুহূর্তের জন্যও বাইরে বের হওয়া সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। সব মিলে কোয়ারেন্টাইনের সময়টা দূর্বিসহই কাটছে সফরকারিদের।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পাঠানো ভিডিও বার্তায় কথাগুলো বলছিলেন মিরাজ।

মিরাজ বলেছেন, ‘প্রথম তিনদিন তো রুমের ভেতরেই ছিলাম। তারপর আধাঘণ্টা করে বের হওয়ার সুযোগ পেয়েছি সবাই। আমি প্রথম যেদিন বেরিয়েছিলাম গতকালকে, শুরুর দিকে মাথা একটু ঘুরছিল। তারপর আস্তে আস্তে ১০-১৫ মিনিট পর ঠিক হয়ে গিয়েছিল। যে তিনদিন ঘরের ভেতর বন্দি ছিলাম, আমার নিজের কাছে মনে হয়েছে যে জেলখানায় আছি। হতাশা আছে কিন্তু যখন বাইরে বেরিয়ে আসলাম, আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ালাম, তখন একটু ভালো অনুভূত হয়েছে। যখন ঘরে গিয়েছি, তখন নিজেকে একটু ফ্রেশ মনে হয়েছে। সারাদিন ঘরে থাকতে তো আর ভালো লাগে না। তিন-চারদিন ঘরে কাটানো, একইভাবে… এটা আসলে একটু আমাদের জন্য অস্বস্তিকর। এই যে ত্রিশ মিনিটের জন্য বাইরে আসতে দেয়, এটা ভালো লাগে যখন রুমে যাই।’

‘বুঝতেই পারছেন কী রকম কাটছে। এই প্রথম হোটেলের ভেতর এরকম পাঁচটা দিন কাটিয়েছি। প্রথম দিকে সময় কাটছিল না। কারও সঙ্গে দেখাই হয়নি। প্রথম তিনদিন তো কারও সাথে দেখাসাক্ষাৎ হয়নি। ফোনে-ফোনে কথা হয়েছে সবার সাথে, ভিডিও কলে কথা হয়েছে (হাসি) রুম টু রুম। প্রথমদিকে বোরিং লাগছিল, সময় কাটছিল না। এখন যেহেতু পাঁচদিন কেটে গেছে, আশা করি আরও তিনদিন কেটে যাবে।’ যোগ করেন মিরাজ।

নিউজিল্যান্ড সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মানুযায়ী ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের প্রথম সপ্তাহটি এভাবেই কাটাতে হবে টিম বাংলাদেশকে। এরপর অষ্টম দিন থেকে ফিটনেস ও সীমিত পরিসরে স্কিল অনুশীলনের সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা। তবে মিরাজের দাবি, তার আগেই যদি তারা জিমনেশিয়ামে ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে পারতেন তাহলে সময়টা তাদের কাছে এত দুর্বিসহ হয়ে উঠত না।

‘ছয়-সাতদিন পর যখন আমরা জিম এবং মাঠে যেতে পারব, তখন আমাদের ভালো লাগবে। এখন হয়তো সময়টা কাটছে না। জিমের ফ্যাসিলিটিজ বা আমরা যদি কিছু ওয়ার্ক করতে পারতাম, তাহলে আমাদের জন্য সহজ হতো। সময়টা কেটে যেত, বডি ফিটনেস ভালো হতো। যেহেতু অপর্চুনিটি নেই, দুই-তিনদিন পর স্টার্ট হবে… আশা করি তখন ইনশাআল্লাহ্‌ বেটার হবে।’