১০ দিন আটক থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলেন ইরানী সাংবাদিক

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯ | আপডেট: ১১:১২:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯
ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

আমেরিকায় বিনা অভিযোগে ১০ দিন আটক থাকার পর সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ইরানের প্রেস টিভির খ্যাতিমান উপস্থাপিকা মারজিয়া হাশেমি তেহরানে ফিরেছেন।

বুধবার রাত ১০টার দিকে তেহরানের ইমাম খোমেনী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে। এসময় মারজিয়া হাশেমির আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক জনতা তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে ইরানের সাবেক স্পিকার গোলাম আলী হাদ্দাদ আদেল এবং প্রেস টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইআরআইবি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের প্রধান ড. পেইমান জেবেলি উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া হাশেমি ইরানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রেস টিভির সাংবাদিক। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের তদন্তের অপ্রকাশিত নথির সাক্ষ্য হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

সাংবাদিক মারজিয়া হাশেমিকে গত বৃহস্পতিবার ছেড়ে দেয়া হয়েছে। হাশেমির গ্রেফতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তুলছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথ নাগরিক হাশেমি বুধবার ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় গ্রান্ড জুরির সামনে জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন ব্যক্তির সূত্রে ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের প্রেস টিভির সঞ্চালক ৫৯ বছর বয়সী হাশেমিকে গত ১৩ জানুয়ারি সেন্ট লুইস ল্যামবার্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই আটক করে। পরে সেখান থেকে ওয়াশিংটনের কারাগারে হস্তান্তর করা হয় তাকে।

গত বছরের মে মাসে ইরানের সঙ্গে বহুপক্ষীয় পারমাণবিক চুক্তি থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরে আসার ঘোষণা দেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

প্রেস টিভি জানায়, কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মার্কিন কারাগার থেকে মারজিয়া হাশেমি মুক্তি পেয়েছেন। পরে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান।

হাশেমি যুক্তরাষ্ট্রে একটি খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে নিজের নামেও পরিবর্তন আনেন।

এর পর এক ইরানিকে বিয়ে করে ইরানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। নিজের পরিবারকে দেখতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন।