১৩ দিন পর হাসপাতালের বিল শোধ করতে যাচ্ছেন সেই নবজাতকের বাবা-মা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ১১:১০:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮

কুমিল্লায় হাসপাতালের অস্বাভাবিক বিল দেখে নবজাতক রেখে পালিয়ে যাওয়া সেই দম্পতির সন্ধান মিলেছে। পুলিশের তৎপরতায় ওই নবজাতকের মা-বাবার সন্ধান পাওয়া গেছে।

১৩ দিন পর বিল শোধ করার জন্য আজ কুমিল্লার ঝাউতলার সিভিক স্কয়ারের মা ও শিশু স্পেশালাইজড হসপিটালে যাচ্ছেন তারা। জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টার দিকে শাহ্ আলম-রোকেয়া বেগম দম্পতি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের ফুলছোঁয়া গ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওয়ানা হন।

হাসপাতালে তাদের নবজাতকের প্রথম ছয়দিনের চিকিৎসা বাবদ ৯৭ হাজার ৩৯৯ টাকা বিল দেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন এই দম্পতি। তবে এই অংক ৩০ হাজার টাকায় কমিয়ে আনায় শাহ্ আলম ও রোকেয়া হাসপাতাল থেকে তাদের সন্তানকে আনতে যাচ্ছেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ইউসুফ পাটওয়ারী বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরে কুমিল্লার ওই হাসপাতালে যোগাযোগ করি। শিশুর বাবা-মাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করার জন্য। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে ছাড়পত্র দেবে বলে জানিয়েছে। তাদের সঙ্গে ফুলছোঁয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো. আবুল বাশারও রয়েছেন।

কুমিল্লার কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক বলেন, নবজাতকের বাবা-মা হাসপাতালের বিল পরিশোধ করলে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাদের থানায় নিয়ে আসা হবে। থানা থেকে তারা আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিশুকে নিয়ে চাঁদপুরে যাবেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে ওই নবজাতকের মা-বাবার অবস্থান খুঁজে বের করা হয়েছে। হাসপাতালে দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ওই দম্পতির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। ১৩দিন পর আজ তারা আসছে।

ওসি বলেন, নবজাতকের বাবা শাহ আলমের ছোট ভাই মানিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। মানিক জানান, তার ভাই একজন দিনমজুর। মাত্র ৭ দিনে হাসপাতালের বিল ১ লাখ টাকা দেখে নিরুপায় হয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এসেছেন। তার ধারণা ছিল- আগে দুটি সন্তানের মৃত্যু হয়েছে, হয়তো এ সন্তানটিও আর বাঁচবে না।

উল্লেখ্য, ১৮ আগস্ট নির্ধারিত সময়ের আগেই ৭০০ গ্রাম ওজনের ছেলে নবজাতক নিয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা গ্রামের শাহ আলম ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলার কুমিল্লা মা ও শিশু স্পেশালাইজড হসপিটালে আসেন।