১৫ ঘণ্টায় কোরআন শেখার মেথড এখন বিদেশেও

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২১ | আপডেট: ৮:৫৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২১

পবিত্র কোরআনের সূরা কামারে আল্লাহ তায়ালা চার চারবার বলেছেন, ‘ওয়ালাকাদ ইয়াসসারনাল কোরআনা লিজজিকরি ফাহাল মিম্মুদ্দাকির।’ অর্থ: ‘বোঝার জন্য এ কোরআন আমি সহজ করে দিয়েছি।’ আয়াতটি সদ্য মাওলানা পাশ করা এক যুবকের হৃদয়ে এমনই আলোড়ন সৃষ্টি করে যে, ‘মাত্র পনের ঘণ্টায় কোরআন শিক্ষা’র আশ্চর্য এক পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেলেন। তার ভাষায়, বোঝা যদি সহজ হয়, তাহলে পড়া আরো সহজ হবে।

যেই ভাবা সেই কাজ। মাত্র দুজন ছাত্র নিয়ে শুরু করলেন সহজে কোরআন শেখানোর মেহনত। ২০০৪ সালে শুরু হওয়া ইকরা কোরআন শিক্ষা ফাউন্ডেশনের শিক্ষার্থী সংখ্যা আজ পনের হাজার। ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা এম. আনিসুর রহমান আকন্দ বলেন, সাফল্যের ১৭ বছরে আমাদের অর্জন হলো, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও আমাদের সহজ কোরআন শেখার মেথড ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বছর আমরা ইকরা জামিয়াতুল আরাবিয়্যাহ নামে নতুন আঙ্গিকে পথচলা শুরু করেছি। এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবাসিক কোরআন শিক্ষা ও হেফজ সেবা দেবো আমরা।

বয়স্কদের কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শুরু হলেও এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পরিচালককে বলেন, আপনার এ পদ্ধতি শিশুদের জন্য আরো বেশি উপযোগী। এরপর শিশুদেরও কোরআন শেখানো শুরু করেন পরিচালক। তারপর আর্জি ওঠে নারীদের কোরআন শেখানোর জন্য।

এ পর্যন্ত ইকরা জামিয়াতুল আরাবিয়্যাহর নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পরিচালক বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর কোরআন শেখানোর অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, আমাদের দেশের বিশাল সংখ্যক মুসলিম ভাইবোন এখনো সহিভাবে কোরআন পড়তে পারেন না। এর প্রধান কারণ হলো, কোরআন শেখা যে সহজ এটা তারা বিশ্বাসই করেন না।

আমার সঙ্গে যারাই কথা বলেন সবার প্রথম প্রশ্নই থাকে- আমি পারব তো? অভয় দিয়ে বলি, অবশ্যই পারবেন এবং মাদরাসা পড়ুয়াদের মতোই পারবেন।

পরিচালক বলেন, কোর্স শেষে শিক্ষার্থীরা যখন সাবলীলভাবে কোরআন পড়তে পারেন তখন অনেকেই বলেন, বহু বছর চেষ্টা করেও আমরা কোরআন শিখতে না পেরে চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছিলাম, আপনি অসাধ্য সাধন করলেন।

জবাবে আমি (পরিচালক) বলি, আসলে আমাদের দেশের কোরআন শিক্ষা বা হেফজ পদ্ধতিতে এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। কোরআন শিক্ষকরা যদি একটু কষ্ট করে ইন্টারনেটে সার্চ করেন তাহলেই দেখতে পাবেন, কতটা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত টেকনিকে কোরআন শেখানো হয় এবং কতটা হাস্যোজ্জ্বল-আনন্দমুখর পরিবেশে শিশুদের কোরআন হেফজ করানো হয়। আমাদের দেশে আজও কোরআন শিক্ষালয়ে লাঠির ব্যবহার করতে হয়। এটা অবশ্যই আমাদের শিক্ষকদের ব্যর্থতা।

সহি তেলাওয়াত শেখানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কোরআনের অর্থ জানাতে শুরুতে থেকেই ইকরা জামিয়াতুল আরাবিয়্যাহ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিচালক বলেন, কোরআন নাজিল হয়েছে বুঝে আমল করার জন্য।

শিক্ষার্থীদের সবসময় বলি, আমরা কোরআন পড়া শেখব বোঝা ও আমলের নিয়তে, তাহলেই কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য সফল হবে। কোরআনের ৩০তম পারাসহ গুরুত্বপূর্ণ সূরাগুলোর অনুবাদ তিনি নিজেই পড়িয়ে দেন। এতে করে শিক্ষার্থীদের মাঝে কোরআন বোঝার আগ্রহ তৈরি হয়ে যায়।

ইকরা জামিয়াতুল আরাবিয়্যাহর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচিব, ব্যাংকার, চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংখ্যাই বেশি। তাদের সন্তানরাও এ প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে কোরআন এবং ইসলামের মৌলিক বিধানগুলো শিখতে পারছে।

প্রতিষ্ঠানটির নতুন আকর্ষণ হলো প্রতিদিন মাত্র দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় করে যে কেউ অল্প সময়ে কোরআন হেফজ সম্পন্ন করতে পারবে। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠান থেকে হেফজ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডের একটি ভাড়া বাড়িতে আবাসিক-অনাবাসিক কোরআন শিক্ষা ও হেফজ কার্যক্রম চলছে।

পরিচালক জানিয়েছেন, এখনো এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোনো সার্টিফিকেট দেওয়া হয় না। তবে প্রক্রিয়া চলছে, অচিরেই সার্টিফিকেট দেওয়া শুরু করব।

এখন পর্যন্ত ইকরা জামিয়াতুল আরাবিয়্যাহ প্রতিষ্ঠান থেকে পরিচালকের দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। সহজ আধুনিক কোরআন শিক্ষা ও নামাজ শিক্ষা এবং অর্থসহ আমপারা। পরিচালক বলেন, আমাদের এ প্রতিষ্ঠান থেকে মুয়াল্লিম ট্রেনিং নিয়ে সারাদেশে অনেকেই ১৫ ঘণ্টায় কোরআন শিক্ষা কোর্স পরিচলানা করছে। দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিশুদ্ধ কোরআন পাঠ ও কোরআনের অর্থ বোঝার আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের স্বপ্ন।