১৬ বছর বয়সী কিশোরীর হাতে উঠছে ‘অল্টারনেটিভ নোবেল’?

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: 5:35 PM, September 25, 2019 | আপডেট: 5:37:PM, September 25, 2019

সুইডেনের কিশোরী জলবায়ু আন্দোলনকারী গ্রেটা থানবার্গসহ চারজন ‘বিকল্প নোবেল’ খ্যাত জীবিকার অধিকার (রাইট লাইভলিহুড) অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের প্রতিফলনে উৎসাহ ও বিস্তারের দাবি জানানোর স্বীকৃতিস্বরূপ থানবার্গকে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়।

গত আগস্টে একটি পালতোলা নৌকায় মার্কিন বেলাভূমিতে নামার পর থেকে এই সুইডিশ কিশোরী সভাগুলোতে অল্প সময়ের জন্য কথা বলেছেন। নিজে বেশি সময় না নিয়ে অল্প-পরিচিত কর্মীদের বক্তব্য দিতে মাইক তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন, যাতে জলবায়ু ইস্যুতে আরও অনেক কণ্ঠ জেগে ওঠে।

তবে সোমবারে সে তেমনটি করেনি। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেসের ডাকা ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটে পাওয়া সবটুকু সময় কাজে লাগাতে চেয়েছে। প্যারিস চুক্তিকে জোরদার করতেই এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।

শ্রোতাদের উদ্দেশে এ কথা বলে সে বক্তব্য শুরু করে- ‘আমার বার্তা হচ্ছে যে, আমরা আপনাদের পর্যবেক্ষণ করছি।’ এতে কারও কারও মুখে হাসি এলেও মুহূর্তেই তা মিলিয়ে যায়।

কিন্তু অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেল যে, সে যেদিকে যাচ্ছে, সেটি কোনো তামাশা নয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সে জানায়, সবকিছুই ভুল। আমার তো এখানে থাকার কথা ছিল না। সমুদ্রের ওই প্রান্তে স্কুলে থাকার কথা ছিল।

১৬ বছর বয়সী এই কিশোরী জানায়, কিন্তু আপনারা আমাদের ছোটদের কাছে আশার কথা শুনতে এসেছেন।

জলবায়ু তৎপরতাকে আলোকপাত করতে পড়াশোনা থেকে কিছুটা সময় ছুটি নিয়ে এসেছে সে।

গ্রেটা জানায়, ফাঁকা বুলি আউড়িয়ে আপনারা আমার স্বপ্ন ও শৈশবকে চুরি করেছেন। কিন্তু ভাগ্যবতীদের মধ্যে আমি একজন। লোকজন ভোগান্তিতে রয়েছেন, তারা মারা যাচ্ছেন, পুরো প্রাণ-প্রকৃতি ভেঙে পড়ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সে জানায়, একটি ব্যাপক বিলুপ্তি শুরুর মধ্যে আমরা রয়েছি। একটি স্থায়ী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির রূপকথার গল্প ও অর্থ, যা নিয়ে আপনারা কথা বলতে পারেন। এত স্পর্ধা আপনারা কই পান!

গ্রেটা বলল, নেতাদের সঙ্গে তার আলাপচারিতায় সে বলেছে, ছোটদের কথা শোনা গেছে এবং গরজও বোঝা হয়েছে।

‘আমি কতটা কাতর ও ক্ষুব্ধ, তাতে কিছু যায় আসে না- আমি তা বিশ্বাস করতে চাই না। যদি আপনি পরিস্থিতি সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারেন, কিন্তু এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন, তখন আপনি অশুভ হয়ে যাবেন এবং আমি তা বিশ্বাস করতে অস্বীকার করব।’

বক্তব্যকে আরও জোরদার করতে জলবায়ু বিপর্যয় নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে একের পর এক বিপজ্জনক ঘটনার তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে গেছে এই কিশোরী।

সে জানায়, দীর্ঘস্থায়ী ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এড়ানোর ক্ষেত্রে পৃথিবীকে ৫০ শতাংশ সুযোগ দিতে ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন নির্গমন ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে এখনকার সবচেয়ে জনপ্রিয় আলাপ। বলা হচ্ছে, এতে দুর্যোগ এড়ানো যাবে। কিন্তু ৫০ শতাংশ ঝুঁকি শুধু আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

গ্রেটা থানবার্গের কথা হচ্ছে, এই পরিসংখ্যানের পক্ষে কোনো পরিকল্পনা কিংবা সমাধান তুলে ধরা হয়নি। কারণ এই সংখ্যা খুব বেশি অস্বস্তিকর হবে। কাজেই এটি যেমন, তেমন করে বলতে আপনারা এতটা পরিপক্ব হননি।

‘আপনারা আমাদের ব্যর্থ করে দিচ্ছেন, কিন্তু ছোট্টরা আপনাদের প্রতারণা বুঝতে শুরু করেছে,’ বলল এ কিশোরী।

এই সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী জানায়, সব ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আপনাদের ওপর নজর রাখছে। যদি আপনারা আমাদের ব্যর্থ করে দিতে চান, তবে আমরা আপনাদের কখনও ক্ষমা করব না।

সড়কে সড়কে বছরখানেক প্রতিবাদের পর এটি ছিল গ্রেটা থানবার্গের বিশ্বমঞ্চে কথা বলার সুযোগ। তার অসন্তুষ্টি ছিল না। চোখেমুখে আবেগ নিয়ে দেয়া বক্তৃতায় বিশ্বনেতাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছে এবং বারবার প্রশ্ন রেখেছে যে, এত বড় স্পর্ধা আপনারা কোথায় পান?

পরে টুইটারসহ সামাজিকমাধ্যমে তার এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। আর এতে বিশ্বের বড় বড় কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর ব্যাপক প্রতিশ্রুতির ফাঁকফোকরও বেরিয়ে এসেছে।

থানবার্গকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার কারণ ব্যাখ্যায় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, সে বিজ্ঞানের বাস্তবতার ভিত্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের রাজনৈতিক দাবিকে আরও জোরালো এবং বিস্তৃত করেছে।