১৯ দিনে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৩২ লাখ, ৭৫৪ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১ | আপডেট: ৭:০৬:অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১
ফাইল ছবি

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয়ভাবে শুরু হয় করোনার টিকাদান কর্মসূচি। এখন পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৩২ লাখ ২৬ হাজার ৮২৫ মানুষ। তাদের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ৭৫৪ জনের। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বলতে স্বাস্থ্য অধিদফতর সামান্য জ্বর, গা ব্যথা, গলা ব্যথা, দুর্বলতা, টিকা দেওয়ার স্থান ফুলে যাওয়া বা লাল হওয়াকে বুঝিয়েছে।

আজ সোমবার (১ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে যারা ভ্যাকসিন নিয়েছে তাদের মধ্যে ১৫ হাজার ৪২১ জন পুরুষ ও আট হাজার ৭৮৪ জন নারী। রাজধানীতে এখন পর্যন্ত চার লাখ ৬৯ হাজার ৫৩১ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এর মধ্যে তিন লাখ সাত হাজার ৯০৬ জন পুরুষ ও এক লাখ ৬১ হাজার ৬২৫ জন নারী।

মহানগরী বাদে ঢাকা জেলায় এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়েছে ৬৩ হাজার ৬৯৫ জন। এর মধ্যে ৪৩ হাজার ৯০ জন পুরুষ ও ২০ হাজার ৬০৫ জন নারী। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জেলায় ভ্যাকসিন নিয়েছেন দুই হাজার ৮৭৩ জন। এর মধ্যে এক হাজার ৮২১ জন পুরুষ ও এক হাজার ৫২ জন নারী ভ্যাকসিন পেয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৪৩ হাজার ১৪৯ জন। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৭২৩ জন পুরুষ ও ১৬ হাজার ৪২৬ জন নারী। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ৯ লাখ ৮৪ হাজার ৪৮৮ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর পরে এই বিভাগে ২৪৯ জনের মাঝে ভ্যাকসিন নেওয়া পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে সবাই সুস্থ আছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ বিভাগে তিন হাজার ৯০৪ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৩৯ হাজার ২৮ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। যার মধ্যে পুরুষ ৮৭ হাজার ৫৩৭ জন ও নারী ৫১ হাজার ৪৯১ জন। এই বিভাগে ৫০ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও সবাই এখন সুস্থ আছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়েছেন সাত লাখ চার হাজার ৫৯৯ জন। এর মধ্যে চার লাখ ৫৮ হাজার ১৬৯ জন পুরুষ ও দুই লাখ ৪৬ হাজার ৪৩০ জন নারী। গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ২২ হাজার ৭৯৬ জন। এখন পর্যন্ত এই বিভাগে ১৬২ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও সবাই এখন সুস্থ আছেন।

রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১১ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ছয় হাজার ৬৭৬ জন ও নারী চার হাজার ৭৯৫ জন। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়েছেন তিন লাখ ৫৫ হাজার ৩৮১ জন। এর মধ্যে দুই লাখ ২৭ হাজার ২৭২ জন পুরুষ ও এক লাখ ২৮ হাজার ১০৯ জন নারী। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ৭০ জনের শরীরে দেখা দিয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তবে সবাই এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৯ হাজার ১৯৬ জন। এদের মধ্যে পুরুষ পাঁচ হাজার ৩৯০ জন ও নারী তিন হাজার ৮০৬ জন। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়েছেন দুই লাখ ৯৩ হাজার ৪২৬ জন। এর মধ্যে এক লাখ ৮৮ হাজার ৭২৮ জন পুরুষ ও এক লাখ চার হাজার ৬৯৮ জন নারী। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ৬৬ জনের শরীরে দেখা দিয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তবে সবাই সুস্থ আছে এখন পর্যন্ত।

খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৩৫০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৩৫৩ জন পুরুষ, নারী ছয় হাজার ৯৯৭ জন। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়েছেন চার লাখ ৯০৬ জন। এর মধ্যে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৪২ জন পুরুষ ও এক লাখ ৪৭ হাজার ৮৬৪ জন নারী। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ৯৮ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে সবাই এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন।

বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় চার হাজার ৪৫৯ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ দুই হাজার ৭৩০ জন, নারী এক হাজার ৭২৯। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়েছেন এক লাখ ৫১ হাজার ৯৩১ জন। এর মধ্যে ৯৯ হাজার ৭৯৫ জন পুরুষ ও ৫২ হাজার ১৩৬ জন নারী। এই বিভাগে এ পর্যন্ত ২৫ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে সবাই সুস্থ আছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে চার হাজার ৯৭৫ জনকে। এর মধ্যে পুরুষ দুই হাজার ৯৩৪, নারী দুই হাজার ৪১ জন। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়েছেন এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৬ জন। এর মধ্যে এক লাখ ২৪ হাজার ৭৮০ জন পুরুষ ও ৭২ হাজার ২৮৬ জন নারী। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে সবাই সুস্থ আছেন।

উল্লেখ্য, জনসাধারণ পর্যায়ে ভ্যাকসিন প্রয়োগের প্রথম দিন ৩১ হাজার ১৬০ জন ও দ্বিতীয় দিন ৪৬ হাজার ৫০৯ জন ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন। তৃতীয় দিনে ভ্যাকসিন নিয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৮২ জন। চতুর্থ দিনে দেশে এক লাখ ৫৮ হাজার ৪৫১ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। পঞ্চম ও ষষ্ঠ দিনে ভ্যাকসিন নেয় যথাক্রমে দুই লাখ চার হাজার ৫৪০ জন ও এক লাখ ৯৪ হাজার ৩৭১ জন।

সপ্তম দিনে ভ্যাকসিন নেন এক লাখ ৬৯ হাজার ৩৫৩ জন। অষ্টম দিনে ভ্যাকসিন নেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৬৭৮ জন। নবম দিনে ভ্যাকসিন নেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৯০২ জন। দশম দিনে ভ্যাকসিন নেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৭৫৫ জন।

একাদশ দিনে ভ্যাকসিন নেন দুই লাখ ৬১ হাজার ৯৪৫ জন ও দ্বাদশ দিনে ভ্যাকসিন নেন দুই লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৪ জন। ত্রয়োদশ দিনে দুই লাখ ২৫ হাজার ২৮০ জন ও চতুর্দশ দিনে এক লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। ১৫ তম দিনে ভ্যাকসিন নেন এক লাখ ৮১ হাজার ৯৮৫ জন। ১৬ তম দিনে ভ্যাকসিন নিয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ৪৩৯ জন। ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরুর ১৭তম দিনে নিয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৩ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। ১৮ তম দিনে ভ্যাকসিন নিয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার ৭৫২ জন। ১৯ তম দিনে ভ্যাকসিন নিয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৩০০ জন।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে শুক্রবার ও ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উপলক্ষে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রথম দিন ২১ জনের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও দ্বিতীয় দিন দেখা দেয় ৭১ জনের মধ্যে। তৃতীয় দিন ৯৪ জন এবং চতুর্থ দিন দেখা দিয়েছে ৭০ জনের শরীরে। পঞ্চম দিনে দেশে ৭৬ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ষষ্ঠ দিনে ৩১ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সপ্তম দিনে ১৮ ও অষ্টম দিনে ২১ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অষ্টম দিনে ২৯ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নবম দিনে ৩৫ ও দশম দিনে ২০ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

একাদশ দিনে ২৭ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ দিনে যথাক্রমে ৪১ ও ৩১ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। চতুর্দশ দিনে ২১ ও ১৫ তম দিনে ৩৯ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ১৬ তম দিনে ২৭ জনের ও ১৭ তম দিনে ১৫ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলা জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এছাড়াও ১৮ তম দিনে ২২ জন ও ১৯ তম দিনে ২১ জনের মাঝে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে সবাই এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন।