১ বছরেও ফলাফল পাইনি জবি সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা

আসলাম হোসেন আসলাম হোসেন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০ | আপডেট: ৪:৩০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

পরীক্ষার পর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ফলাফলের দেখা পাচ্ছে না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। যার ফলে অনিশ্চয়তা আর হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেশনজট লেগেই আছে, দ্রুত সময়ে ফল প্রকাশ সহ নানা দাবীও জানিয়েছিল শিক্ষার্থীরা কিন্তুু কোন কাজ হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনার্স (স্নাতক) ৮ম সেমিস্টারের (ফাইনাল) ২০১৪-১৫ সেশনের পরিক্ষা শেষ হয়েছে গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখে। কিন্তু আজ অবধি ১ বছর ০১মাস পার হলেও ফলাফল পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীরা বলছে, ফলাফল প্রকাশে এমন দীর্ঘ সূত্রতার ফলে বিভিন্ন চাকরিতে আবেদন করা থেকে পিছিয়ে পড়াসহ শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশাও বাড়ছে। এমন সমস্যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেয়ে শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কোর্স শিক্ষক চেয়ারম্যান স্যার হলেও বিভাগে বেশির ভাগ রেজাল্ট মাহমুদুল হাসান করে থাকেন, এটার জন্য মাহমুদুল হাসান কে দায়ী করেন শিক্ষার্থী, ঐ শিক্ষার্থী আরো বলেন, রেজাল্টের কথা বললে স্যারেরা বলেন, রেজাল্ট পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে দিয়েছি তারা না দিলে বিভাগের কিছু করার নেই।

অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, আমরা বিভাগের উপর ক্ষিপ্ত এবং রেজাল্টে জন্য মাঝে একবার ভিসি বরাবর অভিযোগ দেওয়ার জন্য উদ্যোগও নিয়েছিলাম কিন্তু এখনো মাস্টার্স বাকী এই ভয়ে আর যাওয়া হয়নি। ঐ শিক্ষার্থী আরো বলেন, অনলাইনে মুটামুটি সব বিভাগে মাস্টার্স এর ক্লাস চলছে আমাদের দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ কবে আবার শুরু হবে সেটাও কেউ জানে না।

অন্য এক ছেলে শিক্ষার্থী জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন জট আছে কিনা জানি না সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রেজাল্ট দিতে এত বিলম্ব হওয়ায় আমরা হতাশা ব্যক্ত করছি, আশা করি বিভাগের চেয়ারম্যান এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন এবং এই রেজাল্ট বিলম্ব হওয়ার জন্য চেয়ারম্যান এবং মাহমুদুল হাসান স্যার কে দায়ী করেন।

এ বিষয়ে জানাত চাইলে সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান আলী এফ এম রেজোয়ান বলেন, দীর্ঘদিন কম্পিউটার বন্ধ থাকায় সফটওয়্যারে কাজ করছিল না এজন্য দেরি হয়েছে, এছাড়াও নতুন নিয়মে রেজাল্ট তৈরি করতে গিয়ে এ সমস্যা হয়েছে।

রেজাল্ট তৈরী করতে (মাহমুদুল হাসান) এর কোন গাফিলতি ছিল কিনা? উত্তরে চেয়ারম্যান বলেন আমার আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

এ বিষয়ে জানতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ. কে. এম. আক্তারুজ্জামান কে ফোন করলে তিনি বলেন, সংগীত ডিপার্টমেন্ট ২০২০ সালের মার্চ মাসের ৬ তারিখে ডেমো রেজাল্ট পাঠায় পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে পরে সংশোধনীর জন্য আবার বিভাগে পাঠানো হয় এরপর দীর্ঘদিন তাদের রেজাল্ট পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে আসেনি একাধিক বার ফোন করেও মাহমুদুল হাসান কে পাওয়া যায়নি। পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক আরো বলেন, এত সময় পরে রেজাল্ট দেওয়া রীতিমতো একটা অন্যায় করেছে সংগীত বিভাগ, শিক্ষার্থীদের এমন হয়রানির বিষয়ে উপাচার্য কে অবহিত করবো।

তিনি বলেন, আমি অসুস্থ তারপরও বাসায় বসে কাজ করছি, ইতোমধ্যে পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যাদের রেজাল্ট পেন্ডিং আছে তারা যেন দ্রুত পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে সাবমিট করে বেশ কিছু ডিপার্টমেন্ট করেছেও।

পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ১২ বছর কাজ করছি এমন ঘটনা কখনো হয়নি, অবিশ্বাস্য একটা ঘটনা উল্লেখ করে তিনি আরোও বলেন, ডিপার্টমেন্ট থেকে রেজাল্ট দেওয়ার পর পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ দিন সময় নেই এটা সংগীত বিভাগের চরম গাফিলতি।

পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক আরোও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট দিতে পারলে সংগীত বিভাগে এত অল্প শিক্ষার্থীর রেজাল্ট তৈরী করতে এক বছর লাগবে কেন।