২১০০ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ডেল্টা প্ল্যান

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৪৫:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৮

সবার জন্য নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতে কাজ করছে বর্তমান সরকার উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি মানুষকে নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেল্টা প্ল্যান ঘোষণা করেন তিনি।

রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন , সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই ওয়াসার পানি পরিস্থিতির উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে, আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারলে রাজধানীর বক্স কালভার্ট ভেঙে খাল উদ্ধার করে উপর দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। শহরে বস্তি থাকবে না, বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, রাজধানীতে কোনো বস্তি থাকবে না। এর স্থলে ২০ তলা করে ভবন গড়ে তোলা হবে। এখন যেমন বস্তিবাসী ভাড়া দিয়ে থাকেন, তেমনি তখন তারা ওসব ভবনেও দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দিয়ে বসবাস করবেন।

প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে দরিদ্র মানুষকে রাজধানীতে আসতে হয়। আবার আমাদের দৈনন্দিন কাজেও এই শ্রমিক শ্রেণির প্রয়োজন পড়ে। তারা যেন একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সে জন্যই তাদের বসবাসের জন্য একটু ভালো পরিবেশের দরকার।

তিনি আরো বলেন, বস্তিবাসী এখন বস্তিতে যে ভাড়া দিচ্ছে, সে ভাড়াতেই এখানে থাকবেন, অবশ্য তাদের ভাড়া দিয়েই থাকতে হবে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হচ্ছে, কাজেই তারও যেন সেই ছোঁয়াটা পায়, সেটা আমাদের দেখতে হবে।

আরো পড়ুন: নির্বাচনের আগে সংলাপ নিয়ে কাদেরের স্পষ্ট বার্তা

সরকার প্রধান বলেন, কেবল অবস্থাসম্পন্নদের জন্যই নয়, আমাদের উন্নয়ন সকলের জন্য।

ঢাকার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে একই পাইপলাইনে নিয়ে আসতে চীন সরকারের সহযোগিতায় ঢাকা ওয়াসার ২০২৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন মহাপ্রকল্পের অংশ হিসেবে খিলগাঁও এলাকায় এই দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প নির্মিত হচ্ছে।

রাজধানীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে রাজধানীতে আরো চারটি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

এতে পাগলায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় দুটি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় রায়েরবাজার এবং উত্তরায় আরো দুটি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

অনুষ্ঠানে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও উপস্থাপনায় জানানো হয়, তিন হাজার ৩৭৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। ২৪ হেক্টর জমির ওপর বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে ৫০ লাখ নগরবাসীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।